Book: "The Zoo Story"
Genre: Drama
Author: Edward Elbee
Country: America
একজন ব্যক্তির যদি নিজের অবস্থা পরিবর্তনের কোন ইচ্ছে না থাকে কিংবা কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকে তবে কেমন হয় ? যদি ব্যক্তিটির উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকার কারণ না থেকে থাকে বরং উনি যেভাবে আছেন বেশ ভালোই আছেন বলে মনে করেন তবে কেমন হয় ? জানি না আপনাদের কাছে কেমন লাগবে তবে আমাদের বর্তমান সমাজে এই ধরণের মানুষকে ঠিক আসলে মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয় না । আমাদের সমাজে এই ধরণের মানসিকতার মানুষের কিন্তু খুব একটা কমতি নেই । আমাদের আশেপাশে অনেকেই এমন আছেন যাদের আমরা ভবঘুরে বা বাউন্ডুলে বলে থাকি । এই রকমই একটি চরিত্র নিয়ে এই নাটকটি রচনা করেছেন আমেরিকার বিখ্যাত নাট্যকার Edward Elbee । আসলে এটিকে নাটক বললে মনে হয় ভুল হবে । এটাকে একটি নাটিকা বলা যায় ।
আমাদের বর্তমান সমাজ আসলে পুঁজিবাদী নিয়মের মধ্যে দিয়ে ধাবিত হচ্ছে । পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা আমাদের মাঝে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নামক বিষয়টির জন্ম দিয়েছে । পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা প্রচলনের পূর্বে আমাদের সাধারণ মানুষের মাঝে এতোটা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না । কারণ উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমাদের সমাজ থেকে এবং বন্ধু বান্ধব থেকে আলাদা করে দেয় । সবার সাথে একটা প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করে দেয় । এর কারণে সমাজে আমরা একজন অপরিচিত ব্যক্তির সাথে কথা বলি না বা চলি না । এতে করে পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ আরামেই থাকে কারণ তারা আমাদের মাঝে উচ্চাকাঙ্ক্ষার নামে আমাদের মাঝের একতা নষ্ট করে দিয়েছে । তারা এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করার মধ্যে দিয়ে তাদের সকল অন্যায় এবং অত্যাচার আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে যেন আমরা কখনোই প্রতিবাদ করতে না পারি । আমাদের মাঝের সকল মানবতাকে বিলুপ্ত করে চলেছে এই পুঁজিবাদী সমাজ । এই পুঁজিবাদী সমাজের অজ্ঞ একজন সদস্য Peter এবং পুঁজিবাদী সমাজের দৃষ্টিতে পাগলপ্রায় একজন যিনি এই নাটিকার মূল চরিত্র । পুঁজিবাদী সমাজের প্রভাবে আমাদের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কি ধরণের পরিণতি হতে পারে সেই বিষয়ে বেশ আলোকপাত করেছেন এখানে নাট্যকার ।
সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে যদি কোন ব্যক্তি আমাদের সমাজে থেকে থাকে তবে তাদেরও বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । সমাজ আসলে যা মেনে নিতে পারে না অথবা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তা সমাজ নিষিদ্ধ করে দেয় । "কারণ এবং ফলাফলের" যে কোন কারণ থাকে না সেটা অনেকটাই বুঝতে পারবেন এই নাটিকাটি পড়ে । MacGuffin Plot ব্যবহার করেছেন নাট্যকার এই নাটিকায় । পুরো গল্পে আপনাকে একটি গল্প বলার কথা বলা হয়েছে কিন্তু গল্পটি আসলে বলা হয়েছে একদম গল্পের শেষে । এই ধরণের Plot এ সাধারণত একটি গল্প না বলে সেই গল্প বলার প্রক্রিয়াটিতেই বেশি আলোকপাত করা হয়ে থাকে ।
পুরো নাটকটি পড়ে অসাধারণ মজা লেগেছে । কিছু কিছু লাইন আছে যা আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছে । নাটকটিতে তুলে ধরা হয়েছে তৎকালীন আমেরিকার সমাজ ব্যবস্থায় কিভাবে মানুষের মাঝে থেকে তাদের মানবীয় গুণাবলী হরণ করা হচ্ছে ।
সমাজে আর সবার সাথে মিশতে না পারা একজন ব্যক্তি যে কতটা বঞ্চনার শিকার হয়ে থাকে তাও দেখা গিয়েছে । অনেক মানুষই পোষা প্রাণী রেখে থাকে । তবে তাদের এই পোষা প্রাণী রাখার অন্যতম একটা কারণ মনে হয় তারা এই সমাজে সবার মাঝে থেকেও সম্পূর্ণ একা আর তাদের এই একাকীত্ব জীবনে সঙ্গী হয়ে থাকে তাদের পোষা প্রাণীটি ।
আমেরিকা স্বাধীনতার কথা বলে থাকে কিন্তু তৎকালীন আমেরিকায় সমকামীদের কোন স্থান ছিল না সমাজে । তারা ধরা পড়লে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হত এবং চাকরীচ্যুত করা হত । সমকামী ব্যক্তির যদি কোন সন্তান থেকে থাকে তবে তার সন্তানকে তার কাছে থেকে কেড়ে নেওয়া হত এবং তাকে পরিবার থেকেও বের করে দেওয়া হত । অথচ যেই ব্যক্তিগুলো সমাজেরই কোন না কোন ব্যক্তির ভিন্ন রুচির ব্যক্তির কারণে আজ সমকামী হয়ে উঠেছে । আর সমাজ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপরই আবার আক্রমণ করে । একজন সমকামী ব্যক্তি যিনি সমাজের অত্যাচারের শিকার, সমাজ যাকে কৈশোরে নিরাপত্তা দিতে পারেনি সেই রকম একজন ব্যক্তির কি হতে পারে ? নাটকটি পড়েই সেটা বুঝা যায় ।
খুবই ছোট্ট একটি নাটিকা এটি । একটি মাত্র দৃশ্য রয়েছে এখানে । চরিত্র বলতেও খুবই কম । মাত্র দুটি । Jerry and Peter । যারা উদ্ভটত্ব ( Absurdity) এবং অস্তিত্ববাদ ( Existentialism) এর উপর লেখা পড়তে ভালবাসেন আশা করি তাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে নাটিকাটি । Absurdity এবং Existentialism খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে কিছু কাহিনী এবং ঘটনার মাধ্যমে যা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে । এই নাটিকাটি The Theatre of Absurd এর অন্তর্ভুক্ত একটি নাটিকা । Edward Elbee এটি ১৯৫৮ সালে রচনা করেন কিন্তু তৎকালীন আমেরিকার নাটকগুলির সাথে এটি বেশ বেমানান বিধায় এটি প্রথমবারের মতো মঞ্চায়িত হয় বার্লিনে ১৯৫৯ সালে । আমেরিকার নাটকের ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটি নাটক এটি । আধুনিক আমেরিকান নাটকের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র এই নাটকাটি যা তুলে ধরেছে আমাদের বর্তমান সমাজের একটি খণ্ডিত রুপ ।
নাটিকাটির নাম বাংলায় দাঁড়ায় "একটি চিড়িয়াখানার গল্প" । আমরা যে পৃথিবীতে তথা যেই সমাজে বাস করে থাকি সেই সমাজ আজ একটি চিড়িয়াখানায় রুপ নিয়েছে এবং এর মাঝে বসবাসকারী আমাদের এক একটি প্রাণী বানিয়ে আবার সেই চিড়িয়াখানারই অন্য একটি প্রাণীর সামনে প্রদর্শন করা হচ্ছে । আমরা এই প্রাণীগুলোর রঙ্গ তামাশা দেখে চলেছি অনবরত যেন এগুলোই স্বাভাবিক এবং ব্যতিক্রম সবই অস্বাভাবিক এবং নিষিদ্ধ । সুতরাং নামকরণের দিক থেকে বলা যায় যে নামটি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত ।
Genre: Drama
Author: Edward Elbee
Country: America
একজন ব্যক্তির যদি নিজের অবস্থা পরিবর্তনের কোন ইচ্ছে না থাকে কিংবা কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকে তবে কেমন হয় ? যদি ব্যক্তিটির উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকার কারণ না থেকে থাকে বরং উনি যেভাবে আছেন বেশ ভালোই আছেন বলে মনে করেন তবে কেমন হয় ? জানি না আপনাদের কাছে কেমন লাগবে তবে আমাদের বর্তমান সমাজে এই ধরণের মানুষকে ঠিক আসলে মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয় না । আমাদের সমাজে এই ধরণের মানসিকতার মানুষের কিন্তু খুব একটা কমতি নেই । আমাদের আশেপাশে অনেকেই এমন আছেন যাদের আমরা ভবঘুরে বা বাউন্ডুলে বলে থাকি । এই রকমই একটি চরিত্র নিয়ে এই নাটকটি রচনা করেছেন আমেরিকার বিখ্যাত নাট্যকার Edward Elbee । আসলে এটিকে নাটক বললে মনে হয় ভুল হবে । এটাকে একটি নাটিকা বলা যায় ।
আমাদের বর্তমান সমাজ আসলে পুঁজিবাদী নিয়মের মধ্যে দিয়ে ধাবিত হচ্ছে । পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা আমাদের মাঝে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নামক বিষয়টির জন্ম দিয়েছে । পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা প্রচলনের পূর্বে আমাদের সাধারণ মানুষের মাঝে এতোটা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না । কারণ উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমাদের সমাজ থেকে এবং বন্ধু বান্ধব থেকে আলাদা করে দেয় । সবার সাথে একটা প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করে দেয় । এর কারণে সমাজে আমরা একজন অপরিচিত ব্যক্তির সাথে কথা বলি না বা চলি না । এতে করে পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ আরামেই থাকে কারণ তারা আমাদের মাঝে উচ্চাকাঙ্ক্ষার নামে আমাদের মাঝের একতা নষ্ট করে দিয়েছে । তারা এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করার মধ্যে দিয়ে তাদের সকল অন্যায় এবং অত্যাচার আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে যেন আমরা কখনোই প্রতিবাদ করতে না পারি । আমাদের মাঝের সকল মানবতাকে বিলুপ্ত করে চলেছে এই পুঁজিবাদী সমাজ । এই পুঁজিবাদী সমাজের অজ্ঞ একজন সদস্য Peter এবং পুঁজিবাদী সমাজের দৃষ্টিতে পাগলপ্রায় একজন যিনি এই নাটিকার মূল চরিত্র । পুঁজিবাদী সমাজের প্রভাবে আমাদের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কি ধরণের পরিণতি হতে পারে সেই বিষয়ে বেশ আলোকপাত করেছেন এখানে নাট্যকার ।
সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে যদি কোন ব্যক্তি আমাদের সমাজে থেকে থাকে তবে তাদেরও বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । সমাজ আসলে যা মেনে নিতে পারে না অথবা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তা সমাজ নিষিদ্ধ করে দেয় । "কারণ এবং ফলাফলের" যে কোন কারণ থাকে না সেটা অনেকটাই বুঝতে পারবেন এই নাটিকাটি পড়ে । MacGuffin Plot ব্যবহার করেছেন নাট্যকার এই নাটিকায় । পুরো গল্পে আপনাকে একটি গল্প বলার কথা বলা হয়েছে কিন্তু গল্পটি আসলে বলা হয়েছে একদম গল্পের শেষে । এই ধরণের Plot এ সাধারণত একটি গল্প না বলে সেই গল্প বলার প্রক্রিয়াটিতেই বেশি আলোকপাত করা হয়ে থাকে ।
পুরো নাটকটি পড়ে অসাধারণ মজা লেগেছে । কিছু কিছু লাইন আছে যা আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছে । নাটকটিতে তুলে ধরা হয়েছে তৎকালীন আমেরিকার সমাজ ব্যবস্থায় কিভাবে মানুষের মাঝে থেকে তাদের মানবীয় গুণাবলী হরণ করা হচ্ছে ।
সমাজে আর সবার সাথে মিশতে না পারা একজন ব্যক্তি যে কতটা বঞ্চনার শিকার হয়ে থাকে তাও দেখা গিয়েছে । অনেক মানুষই পোষা প্রাণী রেখে থাকে । তবে তাদের এই পোষা প্রাণী রাখার অন্যতম একটা কারণ মনে হয় তারা এই সমাজে সবার মাঝে থেকেও সম্পূর্ণ একা আর তাদের এই একাকীত্ব জীবনে সঙ্গী হয়ে থাকে তাদের পোষা প্রাণীটি ।
আমেরিকা স্বাধীনতার কথা বলে থাকে কিন্তু তৎকালীন আমেরিকায় সমকামীদের কোন স্থান ছিল না সমাজে । তারা ধরা পড়লে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হত এবং চাকরীচ্যুত করা হত । সমকামী ব্যক্তির যদি কোন সন্তান থেকে থাকে তবে তার সন্তানকে তার কাছে থেকে কেড়ে নেওয়া হত এবং তাকে পরিবার থেকেও বের করে দেওয়া হত । অথচ যেই ব্যক্তিগুলো সমাজেরই কোন না কোন ব্যক্তির ভিন্ন রুচির ব্যক্তির কারণে আজ সমকামী হয়ে উঠেছে । আর সমাজ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপরই আবার আক্রমণ করে । একজন সমকামী ব্যক্তি যিনি সমাজের অত্যাচারের শিকার, সমাজ যাকে কৈশোরে নিরাপত্তা দিতে পারেনি সেই রকম একজন ব্যক্তির কি হতে পারে ? নাটকটি পড়েই সেটা বুঝা যায় ।
খুবই ছোট্ট একটি নাটিকা এটি । একটি মাত্র দৃশ্য রয়েছে এখানে । চরিত্র বলতেও খুবই কম । মাত্র দুটি । Jerry and Peter । যারা উদ্ভটত্ব ( Absurdity) এবং অস্তিত্ববাদ ( Existentialism) এর উপর লেখা পড়তে ভালবাসেন আশা করি তাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে নাটিকাটি । Absurdity এবং Existentialism খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে কিছু কাহিনী এবং ঘটনার মাধ্যমে যা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে । এই নাটিকাটি The Theatre of Absurd এর অন্তর্ভুক্ত একটি নাটিকা । Edward Elbee এটি ১৯৫৮ সালে রচনা করেন কিন্তু তৎকালীন আমেরিকার নাটকগুলির সাথে এটি বেশ বেমানান বিধায় এটি প্রথমবারের মতো মঞ্চায়িত হয় বার্লিনে ১৯৫৯ সালে । আমেরিকার নাটকের ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটি নাটক এটি । আধুনিক আমেরিকান নাটকের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র এই নাটকাটি যা তুলে ধরেছে আমাদের বর্তমান সমাজের একটি খণ্ডিত রুপ ।
নাটিকাটির নাম বাংলায় দাঁড়ায় "একটি চিড়িয়াখানার গল্প" । আমরা যে পৃথিবীতে তথা যেই সমাজে বাস করে থাকি সেই সমাজ আজ একটি চিড়িয়াখানায় রুপ নিয়েছে এবং এর মাঝে বসবাসকারী আমাদের এক একটি প্রাণী বানিয়ে আবার সেই চিড়িয়াখানারই অন্য একটি প্রাণীর সামনে প্রদর্শন করা হচ্ছে । আমরা এই প্রাণীগুলোর রঙ্গ তামাশা দেখে চলেছি অনবরত যেন এগুলোই স্বাভাবিক এবং ব্যতিক্রম সবই অস্বাভাবিক এবং নিষিদ্ধ । সুতরাং নামকরণের দিক থেকে বলা যায় যে নামটি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত ।

No comments:
Post a Comment