Search This Blog

Sunday, May 31, 2015

আমার কবিতাঃ "অবসরের অবসাদ"

অবসরের অবসাদ
-----------------তাকাদ্দুস আন্-নূর

আজ বড় অবসাদ লাগে,
বড়ই অসহ্য লাগে কাজ না থাকা অলসতায় কাটানো দিনগুলো ।
বাড়তি একটু ঘুমে আজ নেই আনন্দ,
আছে শুধু দুঃস্বপ্নের তীক্ষ্ণ বেদনা ।
আজ অসহ্য লাগে অলস দুপুরটা, অবসর সময়টা,
যে আজ খোরাক যোগায়, অবকাশ দেয়, তার চিন্তায় কষ্ট পাবার ।

একটু বেশি সময় আজ ঘুমের জন্য চাইনা,
আজ কোন বিশ্রামের আমার নেই প্রয়োজন,
চাইনা আজ আমি ক্ষণিকের জন্যও করতে অবকাশ যাপন ।
আজ চাই কর্ম ব্যস্ততায় পরিপূর্ণ একটি জীবন ।

সকালের আধো ঘুম আর আধো জাগরণে
যখন দুঃস্বপ্নেরা এসে দানা বাঁধে বন্ধ দু’চোখের পাতায়,
তখন অবসাদের তেঁতো রসে মন আমার ছেয়ে যায় ।

যখন সূর্য মামা মাথার উপর থেকে উত্তপ্ত করে তোলে চারিপাশ,
যখন কৃষ্ণ বর্ণের পাখিদের সারি বৈদ্যতিক তারে ঝিমায়,
তখন অলস মস্তিস্কের অলস ভাবনাগুলো পীড়া দেয় আমায় ।

সন্ধ্যার আগমনে ভীত দিনের আলো যখন নিজেকে গুটি গুটি পায়ে গুটিয়ে নেয়,
যখন সূর্যের বিদায়কে চাঁদ মামা স্ব-শরীরে স্বাগত জানায়,
তখন বৃক্ষরাজির মতো নত মস্তকে আমি সন্ধ্যার কষ্ট পায় ।

যখন দিনের কাজ শেষে পরিশ্রমী জনতা,
ফিরে যায় বাড়ি আপনজনের মুখ পানে চাইতে,
যখন মধ্যরাতে ক্রমান্বয়ে চারিদিকে নিস্তব্ধতা গ্রাস করে,
তখন কর্মহীন আমি, ঘুমহীন চোখে, তার কথা ভাবি,
আর অবসরের অবসাদ নিয়েই আগামী দিনের জন্য বাঁচি ।

Thursday, May 28, 2015

Book Review: "The Zoo Story" by Edward Elbee

Book: "The Zoo Story"
Genre: Drama
Author: Edward Elbee
Country: America

একজন ব্যক্তির যদি নিজের অবস্থা পরিবর্তনের কোন ইচ্ছে না থাকে কিংবা কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকে তবে কেমন হয় ? যদি ব্যক্তিটির উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকার কারণ না থেকে থাকে বরং উনি যেভাবে আছেন বেশ ভালোই আছেন বলে মনে করেন তবে কেমন হয় ? জানি না আপনাদের কাছে কেমন লাগবে তবে আমাদের বর্তমান সমাজে এই ধরণের মানুষকে ঠিক আসলে মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয় না । আমাদের সমাজে এই ধরণের মানসিকতার মানুষের কিন্তু খুব একটা কমতি নেই । আমাদের আশেপাশে অনেকেই এমন আছেন যাদের আমরা ভবঘুরে বা বাউন্ডুলে বলে থাকি । এই রকমই একটি চরিত্র নিয়ে এই নাটকটি রচনা করেছেন আমেরিকার বিখ্যাত নাট্যকার Edward Elbee । আসলে এটিকে নাটক বললে মনে হয় ভুল হবে । এটাকে একটি নাটিকা বলা যায় ।
আমাদের বর্তমান সমাজ আসলে পুঁজিবাদী নিয়মের মধ্যে দিয়ে ধাবিত হচ্ছে । পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা আমাদের মাঝে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নামক বিষয়টির জন্ম দিয়েছে । পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা প্রচলনের পূর্বে আমাদের সাধারণ মানুষের মাঝে এতোটা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না । কারণ উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমাদের সমাজ থেকে এবং বন্ধু বান্ধব থেকে আলাদা করে দেয় । সবার সাথে একটা প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করে দেয় । এর কারণে সমাজে আমরা একজন অপরিচিত ব্যক্তির সাথে কথা বলি না বা চলি না । এতে করে পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ আরামেই থাকে কারণ তারা আমাদের মাঝে উচ্চাকাঙ্ক্ষার নামে আমাদের মাঝের একতা নষ্ট করে দিয়েছে । তারা এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করার মধ্যে দিয়ে তাদের সকল অন্যায় এবং অত্যাচার আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে যেন আমরা কখনোই প্রতিবাদ করতে না পারি । আমাদের মাঝের সকল মানবতাকে বিলুপ্ত করে চলেছে এই পুঁজিবাদী সমাজ । এই পুঁজিবাদী সমাজের অজ্ঞ একজন সদস্য Peter এবং পুঁজিবাদী সমাজের দৃষ্টিতে পাগলপ্রায় একজন যিনি এই নাটিকার মূল চরিত্র । পুঁজিবাদী সমাজের প্রভাবে আমাদের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কি ধরণের পরিণতি হতে পারে সেই বিষয়ে বেশ আলোকপাত করেছেন এখানে নাট্যকার ।
সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে যদি কোন ব্যক্তি আমাদের সমাজে থেকে থাকে তবে তাদেরও বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । সমাজ আসলে যা মেনে নিতে পারে না অথবা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তা সমাজ নিষিদ্ধ করে দেয় । "কারণ এবং ফলাফলের" যে কোন কারণ থাকে না সেটা অনেকটাই বুঝতে পারবেন এই নাটিকাটি পড়ে । MacGuffin Plot ব্যবহার করেছেন নাট্যকার এই নাটিকায় । পুরো গল্পে আপনাকে একটি গল্প বলার কথা বলা হয়েছে কিন্তু গল্পটি আসলে বলা হয়েছে একদম গল্পের শেষে । এই ধরণের Plot এ সাধারণত একটি গল্প না বলে সেই গল্প বলার প্রক্রিয়াটিতেই বেশি আলোকপাত করা হয়ে থাকে ।
পুরো নাটকটি পড়ে অসাধারণ মজা লেগেছে । কিছু কিছু লাইন আছে যা আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছে । নাটকটিতে তুলে ধরা হয়েছে তৎকালীন আমেরিকার সমাজ ব্যবস্থায় কিভাবে মানুষের মাঝে থেকে তাদের মানবীয় গুণাবলী হরণ করা হচ্ছে ।
সমাজে আর সবার সাথে মিশতে না পারা একজন ব্যক্তি যে কতটা বঞ্চনার শিকার হয়ে থাকে তাও দেখা গিয়েছে । অনেক মানুষই পোষা প্রাণী রেখে থাকে । তবে তাদের এই পোষা প্রাণী রাখার অন্যতম একটা কারণ মনে হয় তারা এই সমাজে সবার মাঝে থেকেও সম্পূর্ণ একা আর তাদের এই একাকীত্ব জীবনে সঙ্গী হয়ে থাকে তাদের পোষা প্রাণীটি ।
আমেরিকা স্বাধীনতার কথা বলে থাকে কিন্তু তৎকালীন আমেরিকায় সমকামীদের কোন স্থান ছিল না সমাজে । তারা ধরা পড়লে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হত এবং চাকরীচ্যুত করা হত । সমকামী ব্যক্তির যদি কোন সন্তান থেকে থাকে তবে তার সন্তানকে তার কাছে থেকে কেড়ে নেওয়া হত এবং তাকে পরিবার থেকেও বের করে দেওয়া হত । অথচ যেই ব্যক্তিগুলো সমাজেরই কোন না কোন ব্যক্তির ভিন্ন রুচির ব্যক্তির কারণে আজ সমকামী হয়ে উঠেছে । আর সমাজ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপরই আবার আক্রমণ করে । একজন সমকামী ব্যক্তি যিনি সমাজের অত্যাচারের শিকার, সমাজ যাকে কৈশোরে নিরাপত্তা দিতে পারেনি সেই রকম একজন ব্যক্তির কি হতে পারে ? নাটকটি পড়েই সেটা বুঝা যায় ।
খুবই ছোট্ট একটি নাটিকা এটি । একটি মাত্র দৃশ্য রয়েছে এখানে । চরিত্র বলতেও খুবই কম । মাত্র দুটি । Jerry and Peter । যারা উদ্ভটত্ব ( Absurdity) এবং অস্তিত্ববাদ ( Existentialism) এর উপর লেখা পড়তে ভালবাসেন আশা করি তাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে নাটিকাটি । Absurdity এবং Existentialism খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে কিছু কাহিনী এবং ঘটনার মাধ্যমে যা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে । এই নাটিকাটি The Theatre of Absurd এর অন্তর্ভুক্ত একটি নাটিকা । Edward Elbee এটি ১৯৫৮ সালে রচনা করেন কিন্তু তৎকালীন আমেরিকার নাটকগুলির সাথে এটি বেশ বেমানান বিধায় এটি প্রথমবারের মতো মঞ্চায়িত হয় বার্লিনে ১৯৫৯ সালে । আমেরিকার নাটকের ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটি নাটক এটি । আধুনিক আমেরিকান নাটকের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র এই নাটকাটি যা তুলে ধরেছে আমাদের বর্তমান সমাজের একটি খণ্ডিত রুপ ।
নাটিকাটির নাম বাংলায় দাঁড়ায় "একটি চিড়িয়াখানার গল্প" । আমরা যে পৃথিবীতে তথা যেই সমাজে বাস করে থাকি সেই সমাজ আজ একটি চিড়িয়াখানায় রুপ নিয়েছে এবং এর মাঝে বসবাসকারী আমাদের এক একটি প্রাণী বানিয়ে আবার সেই চিড়িয়াখানারই অন্য একটি প্রাণীর সামনে প্রদর্শন করা হচ্ছে । আমরা এই প্রাণীগুলোর রঙ্গ তামাশা দেখে চলেছি অনবরত যেন এগুলোই স্বাভাবিক এবং ব্যতিক্রম সবই অস্বাভাবিক এবং নিষিদ্ধ । সুতরাং নামকরণের দিক থেকে বলা যায় যে নামটি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত ।

Tuesday, May 26, 2015

Movie Review: "Bandit Queen" (1994)

"Bandit Queen" (1994)
Genre: Biography, Crime, Drama
Language: Hindi
Country: India
IMDB Rating: 7.6
Rotten Tomatoes Meter: 100%
My Rating: 8.5

আমি জানি আমার এই রিভিউটা পড়লে হয়তো অনেকের মনে হতে পারে যে আমি বেশ রাগত স্বরে লিখছি । তবে অরুন্ধতী রায়ের এই সিনেমা নিয়ে একটি প্রবন্ধ আমাকে এইভাবে লিখতে অনুপ্রাণিত করল । আর এই সিনেমার পরিচালক শেখর কাপুর বলেই দিয়েছেন যে উনি সত্য এবং নান্দনিকতা এ দুটির মাঝে থেকে সত্যকেই বেছে নিয়েছেন । কারণ সত্যের মাঝে বিশুদ্ধতা আছে ।
এই সিনেমাটি দেখে আমার মনে যে প্রশ্নটি বার বার বেজে উঠেছে তা হল-
"একটি মেয়েকে কতজন মিলে কতবার ধর্ষণ করলে সমাজের পুরুষদের যৌন ক্ষুধা মিটবে?"
শিশুকাল এমন একটি বয়স যে বয়সে একটি বাচ্চার ছেলে বা মেয়ে বলে পরিচয় গড়ে উঠে না । কিন্তু এই শিশুটি যদি মেয়ে শিশু হয় তবে এই শিশুকাল থেকেই শুরু হয় ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং যৌন অত্যাচার । "Bandit Queen" সিনেমায় সেরকমই কিছু দেখানো হয়েছে ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে একজন মেয়ে কার বা কাদের দ্বারা সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকে ? উত্তরটা অনেকের জন্য একটু অবাক করা হতে পারে তবে ধর্ষণের সংজ্ঞায় এটাই সত্য যে একজন নারী সবচেয়ে বেশী ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকে তার স্বামীর কাছে । সমাজ বা ধর্ম একজন পুরুষ এবং নারীকে বিয়ের মাধ্যমে যৌন মিলনের অনুমতি দিয়ে থাকে কিন্তু কখনোই স্বামী বা স্ত্রীর অর্থাৎ উভয়ের অনুমতি ব্যতিত সেটির অনুমতি দেয় না । তবে এগুলো সবই নীতিকথা নয়তো বইয়ের কথা । বাস্তবতা আলাদা । তার একটা জলজ্যান্ত প্রমাণ আপনি পেয়ে যাবেন এই সিনেমায় ।
কিছুদিন আগেই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের "অভাগীর স্বর্গ" নামক ছোট গল্পটি পড়লাম । যার মূল উপজীব্য বিষয় ছিল হিন্দু সমাজের নিচু জাত এবং নিচু জাত হবার কারণে তাদের পরিণাম ।
এই সিনেমাটি দেখে প্রশ্ন উঠে যে আসলেই কি নিচু জাতে জন্ম নেওয়া অপরাধ ? যদি হয়ে থাকে তবে তার জন্য কেন আমরা শাস্তি পাবো ? নিচু জাতের ঘরে তো জন্ম ঈশ্বরই দিয়েছেন । তবে এই নিচু জাতের মানুষগুলোর উপর অত্যাচার করে উঁচু জাতের মানুষগুলো তাদের ঈশ্বরকেই কি অপমান বা ছোট করছে না ?
একজন নিচু জাতের মেয়ে বলে কি সেই মেয়ের কোন মর্যাদা নেই ? যখন তখন তাকে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে ধর্ষণ করা যাবে, অত্যাচার করা যাবে ? আর যদি সেই মেয়ের বাবা কোন কারণে গরীব হয়ে থাকে তাহলে তো কথায় নেই । ঐ মেয়ের জন্ম নেওয়া যে পাপ হয়েছে সেটা সমাজে তার প্রতি পদক্ষেপে বুঝিয়ে দেই । এমতাবস্থায় একজন গরীব মানুষ কি করতে পারে ? রাষ্ট্রের কাছে বা সেই সমাজের কাছেই বিচার চাইতে পারে । তবে সমাজের বিচার ব্যবস্থা শুধুমাত্র উঁচু বর্ণের মানুষের জন্য । পুলিশ আছে তবে সেখানে আছে টাকার খেলা এবং তারা আছে শুধু উঁচু বর্ণের লোকদের রক্ষা করতে ।
সন্ত্রাসী আসলে এমনি এমনি তৈরি হয় না । সমাজ এবং রাষ্ট্রের নানান অনাচার এবং অত্যাচার এদের তৈরি করে থাকে । কিন্তু এরা যখন এই সকল অত্যাচার সহ্য করে সন্ত্রাসী হিসেবে নিজেদের প্রতিশোধ নিতে আসে তখন সেই সমাজ বা রাষ্ট্রই আবার এদের বিচার করে, এদের শাস্তি দেয় । কিন্তু এর জন্য কি আসলে সমাজ বা রাষ্ট্রেরই শাস্তি পাওয়া উচিৎ নয় ?
আমরা সবাই অনেক কষ্ট, হতাশা নিয়েই জীবনে বেঁচে থাকি এবং মাঝে মাঝে আমাদের এই জীবনকে নিয়ে আমরা নিজেরাও অতিষ্ঠ হয়ে যায় এবং মৃত্যু কামনা করি । কিন্তু এই সিনেমাটি দেখলে আপনার মনে হবে যে আমরা ঢের সুখে আছে । ফুলন দেবীর কষ্ট দেখলে আপনার চোখ দিয়ে পানি না বের হয়ে আসুক কিন্তু আপনার মন কেঁদে উঠবে । আবার আরও একটি প্রশ্ন জেগে উঠবে এতো কষ্ট এবং অত্যাচারের পরেও কিভাবে একজন মানুষ বেঁচে থাকে, কিভাবে সংগ্রাম করে যায় বেঁচে থাকার ? ফুলন দেবী প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছে সহনশীলতা, ধৈর্যশীলতা এবং প্রচেষ্টা পারে মানুষকে পাল্টে দিতে ।
সিনেমাটি যদি দেখেন তবে আপনার মনেও এই ধরণের প্রশ্নগুলো জেগে উঠতে পারে । পুরো সিনেমা দেখার পরে এখন আমার আফসোস হচ্ছে যে কেন আরও আগে এই সিনেমাটি দেখলাম না । এই সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে ভারতের বিখ্যাত ( উঁচু বর্ণের হিন্দুদের কাছে কুখ্যাত ) ফুলন দেবীর জীবনী নিয়ে । যিনি দুবার নির্বাচিত হয়েছিলেন ভারতীয় লোকসভায় এবং ২০০১ সালে হিন্দু উঁচু বর্ণের কিছু মানুষের হাতেই খুন হন । তার ছোটবেলা থেকে ধীরে ধীরে কিভাবে তিনি ফুলন দেবী হয়ে উঠলেন সেই ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায় ।
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সীমা বিশ্বাস, নির্মল পাণ্ডে, মানজ বাজপে, রাজেশ বিবেক প্রমুখ । ফুলন দেবীর চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন সীমা বিশ্বাস । আর এই অসাধারণ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন শেখর কাপুর । ১৯৯৪ সালে এই সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে এবং এডিনবার্গ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় । ১৯৯৫ এবং ১৯৯৭ সালে সিনেমাটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে ৪ টি বিভাগে পুরষ্কার অর্জন করে । এর বাইরেও ১৯৯৬ সালে ৩ টি বিভাগে এই সিনেমা ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার অর্জন করে । সুতরাং সম্মাননা দেখেই বুঝা যায় যে এটি একটি অসাধারণ সিনেমা । এর বাইরেও এটি খুবই একটি সমালোচিত সিনেমা । বিশেষ করে ভারতের উঁচু এবং নিচু বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়গুলোর কাছে । এর বাইরেও ইন্টারনেটে আরও অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির সমালোচনা খুঁজে পাবেন এই সিনেমার উপর । ভারতের খ্যাতিমান লেখিকা অরুন্ধতী রায় এই সিনেমার উপর ভিত্তি করে লিখে ফেলেছেন তার চমৎকার দুটি প্রবন্ধ এবং নাম দিয়েছেন "The Great Indian Rape-Trick I" ও "The Great Indian Rape-Trick II" । আশা করি সিনেমাটি দেখলে আপনার সময় আপচয় হবে না এবং যারা ঐতিহাসিক সিনেমা বা জীবনী নিয়ে সিনেমা পছন্দ করে থাকনে তারা অসাধারণ মজা পাবেন । আর দেখে না থাকলে বলতে পারি খুব ভালো কিছু মিস করবেন ।

Torrent Link: http://katproxy.com/bandit-queen-1994-dvdrip-xvid-ac3-subs-divx-avi-english-subtit-t2199413.html

Tuesday, May 19, 2015

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়য়ের “অভাগীর স্বর্গ”

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়য়ের “অভাগীর স্বর্গ” পাঠ পরবর্তী মতামত

সমাজ মানেই নরকের খণ্ডিত চিত্র । সমাজ মানেই অনাচার, অত্যাচার আর ভণ্ডামির নগ্ন চিত্র । সমাজের জাতিভেদ মানেই মানবতাকে লুণ্ঠিত করা, পদদলিত করা আর ঈশ্বরকে অপমান করা । লেখকদের সমালোচনা বুঝি এই কারণেই করা হয় কারণ তারা আমাদের চোখে দেখা সমাজের সাধারণ ঘটনাগুলোর বীভৎসতা তুলে ধরেন ।
এমনই একজন লেখন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যিনি তার লেখায় তুলে ধরেছেন সমাজের নানান সমস্যা, ধর্মীয় কুসংস্কার এবং অনাচার যেগুলো আপাতদৃষ্টিতে আমাদের কাছে খুবই সাধারণ মনে হয় । কিন্তু সেগুলোর ভয়াবহতা যে কি রূপ ধারণ করতে পারে তা তুলে ধরেছেন তিনি তার লেখায় ।
বলছি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়য়ের “অভাগীর স্বর্গ” নামক গল্পের কথা । আমার একজন নবম শ্রেণীর ছাত্র রয়েছে । তাকে গত কদিন আগে আমাকে এই গল্পটি পড়ে বুঝিয়ে দিতে হল । কিন্তু গল্পটি পড়তে গিয়ে দেখি আমার শরীরের লোম খাড়া হয়ে গিয়েছে এবং আমার চোখও কিছুটা ঝাপসা হয়ে এসেছে । আরও অবাক হলাম যখন দেখলাম যে আমার ছাত্রের চোখ বেয়ে অঝোর ধারায় পানি পড়ছে । পুরো গল্পটি শেষ করার পরেও দেখি যে সে চুপচাপ বসে আছে । হয়তো তখনও সে ডুবে ছিল গল্পের মাঝে বা হয়তো আমি বাংলাও ভালো পড়াতে পারি সেই কারণে । তবে গল্প বুঝতে গেলে গল্পকে অনুভব করতে হয় । ডুব দিতে হয় চরিত্রের গভীরে । চরিত্রগুলোর জায়গায় নিজেকে কল্পনা না করলে মনে হয় গল্প অনুভব করা যায় না । গল্পটি পড়ে আমার মনে পড়ে গিয়েছিল “মহেশ” এবং “ছুটি” গল্প দুটির কথা যেগুলো আমাকে প্রায় একই রকম অনুভূতিতে নাড়া দিয়েছিল ।
হিন্দু সমাজে নিচু জাতি বলে কি দুলেরা শ্মশানে যেতে পারবে না ? নিচু জাতি হবার জন্য কি তাদের জন্য স্বর্গ থেকে রথ আসবে না ? নিচু জাতি বলে কি তারা তাদের আত্মীয় স্বজনদের চিতায় দিতে পারবে না ? নাকি নিচু জাতি বলে তাদের স্বর্গেও প্রবেশ নিষেধ ?
অসাধারণ কিছু প্রশ্ন ! যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে তারাও বুঝতে পারবে যে এখানে মূলত ঈশ্বরকেই অপমান করা হয়েছে এই ধরণের জাতিভেদের মাধ্যমে । এরকমই কিছু কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর “অভাগীর স্বর্গ” নামক গল্পে নানান ঘটনার মাধ্যমে ।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘অভাগী’ এবং তার একমাত্র সন্তান ‘কাঙ্গালি’ । অভাগীর নাম অভাগী কেন দেওয়া হয়েছে সেটা জানার জন্য আমাকে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে । অভাগী নামকরণের কারণ তো জানতে পারলাম তবে অভাগীর স্বর্গ বলতে কি বুঝানো হয়েছে তা বুঝতে আমাকে আরও অপেক্ষা করতে হয়েছে একদম গল্পটির শেষ লাইন পর্যন্ত । তবে আমার কাছে এখানে অভাগীর স্বর্গের দুটো অর্থ আছে বলে মনে হয়েছে । এক হল অভাগীর সন্তান কাঙ্গালি এবং দুই হল স্বর্গ, যে স্বর্গ আমারা কামনা করে থাকি আমাদের মৃত্যুর পরের জীবনে ।
হিন্দু সমাজের জাতিভেদ, নিচু জাতির প্রতি অত্যাচার, ধর্মীয় নানান কুসংস্কার যার বেড়াজাল থেকে উঁচু হিন্দু সমাজও মুক্ত নয়, জমিদারদের অত্যাচার এবং তাদের খাজনা আদায়ের বীভৎস দৃশ্য ফুটে উঠেছে এই গল্পে । এর বাইরেও উঠে এসেছে একজন অপরাধী কিভাবে নতি স্বীকার করে ভালবাসার কাছে, কিভাবে একজন নির্দয় মানুষের মনও গলে যেতে পারে পরম ভালবাসায় । আর যে দৃশ্যটি সবচেয়ে আমার নজর কেড়েছে তা বল মা ও সন্তানের সম্পর্ক । মাকে সন্তানের এবং সন্তানকে মার আগলে রাখা, মার গলা জড়িয়ে ধরে গল্প শুনা ইত্যাদি । লেখক তুলে ধরেছেন কিভাবে একজন মা এবং সন্তান তাদের পরস্পরের প্রতি অবিচল আস্থা এবং ভালবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন ।
গল্পটি পড়ে হয়তো আমি একটু বেশিই আবেগে আপ্লুত হয়ে গিয়েছি । একজন মাকে নিয়ে গল্প তো, তাই হয়তো । আমারও মা নেই তাই জোর করে ভুলে থাকা মায়ের অভাবগুলো আবারও মনের মাঝে নতুন করে জেগে উঠে নাড়া দিয়েছিল । আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে গল্পটি । বর্তমানে নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্য বইয়ে গল্পটি খুঁজে পাবেন । এই বাইরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়য়ের ছোট গল্পের বইয়েও পাবেন এবং উনার ওয়েবসাইটেও পাবেন । 

Link: http://www.sarat-rachanabali.nltr.org/content.jsp?002046001001

Monday, May 18, 2015

Movie Review: "The Lunchbox" (2013)

"The Lunchbox" (2013)
IMDB Rating: 7.8
My Rating: 8.5

হিন্দি যে কয়টা সিনেমা দেখে আমার মন ভরে গিয়েছে তাদের মধ্যে এই সিনেমাটাও একটা । এই সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একজন বিপত্নীক সরকারি চাকুরীজীবী এবং একজন গৃহিণীর পত্রের মাধ্যমে প্রেম নিয়ে । পরিচালক Ritesh Batra এর প্রথম ছবি হলেও কাজ কিন্তু অসাধারণ করেছেন । ২০১৩ সালে এটি Filmfare Critics Award for Best Movie এর পুরস্কার জিতে নেয় । কেনই বা নিবে না ? এই সিনেমায় কি নেই ? সবই আছে । আমাদের যান্ত্রিক জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনে এর প্রভাব, জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব, মধ্যবিত্ত পরিবারের সমস্যা, সমাজে নারীর অবস্থান, পুঁজিবাদী বিশ্বের হাতে আমাদের বন্দিত্ব, সমাজের শ্রেণী বৈষম্য এবং সাথে আছে Magic Realism এর বেশ কিছু উদাহরণ । এই সিনেমায় Irrfan Khan এর অভিনয় যথেষ্ট ভাল লেগেছে তবে নজর কেড়েছে Nawazuddin Siddiqui এর প্রাণবন্ত এবং সাবলীল অভিনয়ও ।
তবে এই সিনেমায় যেটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে তা হল চিঠির উত্তরের জন্য অপেক্ষা যা আমাদের বর্তমান সমাজে নেই বললেই চলে ।

Torrent Link: http://extratorrent.cc/torrent/3575738/The+Lunch+Box+%282013%29+-+BRRip+-+x264+-+720p+-+AC3+-+%5BD3si+ManiAcs%5D.html

Movie Review: "Captain Phillips" (2013)

"Captain Phillips" (2013)
Country: USA
Genre: Biography, Drama, Thriller
IMDB Rating: 7.9
My Rating: 7.0


সত্যিকার কাহিনীর উপর তৈরি সিনেমাটি আমার নজর কেড়েছে অভিনেতা Tom Hanks এবং পরিচালক Paul Greengrass এর জন্য । সিনেমাটি বেশ ভালো লেগেছে । এই সিনেমার মাধ্যমে পরিষ্কার বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সন্ত্রাসীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কি রকম হতে পারে । একই সাথে ব্যবসা কেন্দ্রিক জাহাজ গুলোর নিরাপত্তা, জাহাজের কর্মচারী এবং শ্রমিকদের প্রতি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর উদাসীন মনোভাবও উঠে এসেছে । সন্ত্রাসীরাও যে সমাজের চাপে সৃষ্টি হয় এবং তারা যখন সমাজের কতিপয় ব্যক্তির ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন সেই সমাজই তাদের বিচার করে হত্যা করে । এবং সন্ত্রাসের শিকড় কোথায় তা জানা সত্ত্বেও যে প্রশাসন সেখানে আঘাত না হেনে কোন অদৃশ্য কারণে চুপ থাকে সেটাও এখানে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে ।

Torrent Link: http://extratorrent.cc/torrent/3379382/Captain+Phillips+%282013%29+1080p+BrRip+x264+-+YIFY.html

Movie Review: "The Fifth Estate" (2013)

"The Fifth Estate" (2013)
Country: USA
Genre: Biography, Drama, Thriller
IMDB Rating: 6.1
My Rating: 5.7 


কিছু না দেখে এবং না জেনেই শুধুমাত্র Benedict Cumberbatch এর চেহারা দেখেই আমার এই সিনেমাটা দেখতে বসা । পরবর্তীতে বুঝতে পারলাম যে এটি Julian Assange এবং উনার WikiLeaks এর উত্থানের নেপথ্যের কাহিনী নিয়ে নির্মিত একটি সিনেমা । তবে Biographical সিনেমা হিসেবে Benedict Cumberbatch এর "The Imitation Game" দেখে যেই মজাটা পেয়েছিলাম এই সিনেমাটা দেখে সেরকম বোধ করি নাই । তবে এই সিনেমা থেকে এবং আরও নানান Biographical সিনেমা দেখে যা মনে হল তা হল এই যে, সকল সফল ব্যক্তিরাই বুঝি একটু একরোখা এবং আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকেন । এখানেও Julian Assange এর চরিত্রের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম দেখলাম না । তবে এটা আমার উপলব্ধি মাত্র ।
পরিশেষে বলতে পারি সিনেমাটা দেখে বেশ মজা পাবেন এবং যারা একটু Biographical সিনেমার প্রতি বেশি আকৃষ্ট তারা হয়তো একটু বেশিই মজা পাবেন ।

Torrent Link: http://1337x.to/torrent/718735/The-Fifth-Estate-2013-1080p-BrRip-x264-YIFY/

Movie Review: "Taken 3" (2014)

"Taken 3" (2014)
Country: USA
Language: English
Genre: Action, Thriller
IMDB Rating: 6.1
My Rating: 5.0

Liam Neeson ব্যক্তিটির সাথে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে উনার অভিনিত "Taken" সিনেমাটির মাধ্যমে । এই সিনেমার মাধ্যমেই আমি প্রথমবারের মতো উনার ভক্তে পরিণত হয় । এরপর এক এক করে উনার অনেকগুলো সিনেমাই দেখা হয়ে গিয়েছে ।
"Taken 3" সিনেমার নামটা দেখার পর এমনিতেই তর সইনা আমার, সুতরাং হাতে পাওয়া মাত্র আর দেরি করি নাই । তবে অনেক হতাশ হয়েছি । সিনেমার গল্পটি আবর্তিত হয়েছে Bryan Mills এর প্রাক্তন স্ত্রী Lenore St. John এর হত্যাকাণ্ড এবং তার দায় Bryan Mills এর উপর চাপানোর অপচেষ্টা নিয়ে যার মাধ্যমে Lenore St. John এর বর্তমান স্বামী Stuart St John তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের ব্যর্থ চেষ্টা করেন । এই সিনেমায় Bryan Mills এর মেয়ের চরিত্রে এবারও Maggie Grace কেই উপস্থাপন করা হয়েছে ।
"Taken" সিরিজের আগের দুটো সিনেমা কিন্তু অপহরণ এবং অতঃপর নায়কের উদ্ধার অভিযানের উপর ভিত্তি করে । এই সিনেমাতে সেরকম কিছু আমি খুঁজে পাই নাই । যা একটু অপহরণের দৃশ্য দেখানো হয়েছে তাও একেবারেই শেষ প্রান্তে এসে । কিন্তু উদ্ধার অভিযান দেখার এবং উপভোগ করার যে মজা সেই মজা থেকে পুরোপুরিই বঞ্চিত হয়েছি ।
কিছু সিনেমা অনেক আশা নিয়ে দেখতে বসি আর হতাশা নিয়ে শেষ করি । এই সিনেমাটিকে আমি সেই কাতারেই ফেলবো ।

Torrent Link: https://kat.cr/taken-3-2014-1080p-brrip-x264-yify-t10442931.html

Movie Review: "Smokin' Aces" (2006)

"Smokin' Aces" (2006)
Country: USA
Language: English
Genre: Action, Crime, Drama
IMDB Rating: 6.7
My Rating: 5.5

সাধারণত পরিচালকগণ অসংখ্য তারকার সমাহার ঘটান নিজেদের ছবিতে মূলত দর্শক টানার জন্য । এই ছবিটাও সেরকম একটি । এই সিনেমায় তারকার অভাব নেই । অসংখ্য তারকার চেহারা দেখা গিয়েছে এই সিনেমাটিতে । সেই দিক থেকে সিনেমাটি থিকই আছে । তবে অনেক তারকা থাকা সত্ত্বেও যদি সেগুলো জ্বলে না উঠে এবং দ্যুতি না দেয় তবেই সমস্যা । এই সিনেমাতেও একই সমস্যা আছে বলে মনে হয় । তবে অভিনয়ের থেকে গল্পের দিকে আমার নজরটা বেশি গিয়েছে । খুবই সাদামাটা কাহিনী নির্ভর একটা সিনেমা ।
এই সিনেমার কাহিনীতে দেখানো হয়েছে কিভাবে FBI একজন শীর্ষ অপরাধীকে গ্রেফতার করে কিন্তু তারপরেও পরিচালক চেষ্টা করেছেন কিছুটা মজা রেখে দিতে একদম শেষ মুহূর্তের জন্য । যদিও এই কৌশল অনেক পরিচালকই তাদের ছবিতে কাজে লাগায় । তবে আমার কাছে এই ছবির Anti-climax টি ভালো লাগে নাই তেমন । তবে কিছু কিছু দৃশ্য আমাকে বেশ আনন্দ দিয়েছে বৈকি ।
যারা কিছুটা উন্মাদ ধরণের এ্যাকশন ছবি পছন্দ করেন তারা আশা করি বেশ মজা পাবেন এটি দেখে । এবং পুরো সিনেমার বিভিন্ন অংশে পরিচালক বেশ কিছু Comic Relief এর দৃশ্য দিয়ে দিয়েছেন যেগুলো দেখে বেশ মজা পাওয়া যাবে । সিনেমার মারামারি গুলো দেখেও অনেকে মজা পাবে বলে মনে করি।

Torrent Link: https://kat.cr/smokin-aces-2006-720p-brrip-x264-yify-t10412874.html

Sunday, May 17, 2015

Book Review: "The God of Small Things" by Arundhati Roy

"The God of Small Things"
লেখকঃ অরুন্ধতী রায় ।
প্রথম প্রকাশঃ ১৯৯৭ ইং ।
অর্জনঃ বুকার পুরস্কার, ১৯৯৭ ইং । 


আগের মতো বই পড়ার সুযোগ এখন পাই না বা বলা যায় আগের মতো বই পড়ার ধৈর্য এখন আর আমার নেই । তারপরেও অনেকদিন সময় নিয়ে আমি এই বইটি পড়ে শেষ করলাম । পড়া শেষ করে বলতে পারি যে সময় নষ্ট করিনি । আমি বইটির বঙ্গানুবাদ পড়েছি । আমার কাছে দুটো বঙ্গানুবাদ আছে । তাদের মধ্যে "আবির হাসান" এর অনুবাদটি অসাধারণ এবং চমৎকার মনে হয়েছে ।
নান্দনিকতা যে একটি লেখার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এই বইটি পড়লেই উপলব্ধি করা যায় । এই বইয়ের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে নান্দনিকতা যার ছোঁয়ায় আমাদের প্রতিদিনের দেখা খুব সাধারণ বিষয়গুলো অসাধারণ হয়ে উঠেছে বইয়ের পৃষ্ঠাগুলোতে । খুবই সাধারণ একটা গল্প উঠে এসেছে বইটিতে অসাধারণ শিল্পের ছোঁয়ায় । দু'জন যমজ ভাই-বোন এবং তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু সাধারণ ঘটনা নিয়েই এই উপন্যাসটি রচিত । এই উপন্যাসে অত্যান্ত সুচারুরূপে তুলে ধরা হয়েছে সমাজের শ্রেণী বিভাজন এবং উত্তর ঔপনিবেশিকতাবাদ এবং এর প্রভাব । তুলে ধরা হয়েছে সমাজের কিছু নিয়ম যে নিয়ম অনেকের জীবনের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়ায় । আমাদের ব্যক্তি জীবনে আমরা নিজেদের সাথে এবং আমাদের সন্তানদের সাথে কিছু ভুল করে থাকি যার জন্য আমাদের প্রত্যেককে সারা জীবন চড়া মূল্য দিয়ে যেতে হয়, সেই রকম কিছু ঘটনাও এই বইয়ে খুঁজে পাওয়া যায় । সাথে আছে কিশোর-কিশোরীদের উপর গোপন যৌন নিপীড়নের দৃশ্য । একই সাথে উঠে এসেছে আমাদের পরাধীনতার বিষয়টি । আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে, পরিবারের কাছে, সমাজের কাছে, গোষ্ঠীর কাছে, ধর্মের কাছে, দেশের কাছে, প্রযুক্তির কাছে, ভালবাসার কাছে, যৌন ক্ষুধার কাছে এবং সর্বোপরি মৃত্যুর কাছে পরাজিত হচ্ছি এবং দাসত্ব মেনে নিচ্ছি । আমাদের ভদ্র মানুষের লেবাসের পিছনে যে ভণ্ডামি এবং কপটতা লুকিয়ে আছে এবং স্বার্থে আঘাত আসলে যে তা আমরা যে কোন মূল্যেই প্রকাশ করে থাকি তার সব কিছুই একে একে তুলে আনা হয়েছে এই উপন্যাসে ।
দেখার দৃষ্টি থাকলে অনেক কিছুই দেখা যায় আর চিন্তা করার ইচ্ছে থাকলে অনেক কিছুই চিন্তা করা যায় এবং ভাবা যায় । এই বইটি পড়ে আমার সেটিই মনে হয়েছে । এই বইটি না পড়লে আসলে এই বইটির নামকরণের সার্থকতা সম্পর্কে জানা যাবে না । বইটির এক এক পৃষ্ঠা আমাকে প্রমাণ দিয়ে দিয়েছে যে এটিই এই বইটির জন্য উপযুক্ত নাম ।
ভালবাসা, প্রেম, ভালবাসার পরিমাণ কি রকম হবে এবং ভালবাসার ব্যক্তিটি কে হবে তা নির্ধারণ করে দেয় কোন এক অদৃশ্য শক্তি যার অস্তিত্ব আমরা মেনে নেই কিন্তু চোখে দেখিনা ।
এই বিষয়গুলো আমি খুঁজে পেয়েছি এই উপন্যাসে । আমার মনে হয় না কেউ নিরাশ হবে যদি এই উপন্যাসটি নিজে পড়ে । অনেক কিছু লেখা আছে এই উপন্যাসে যা আগে বহুবার দেখেছি কিন্তু কখনো সেই বিষয়গুলো নিয়ে ভেবে দেখিনি, বিষয়গুলো যে এইভাবে বর্ণনা করা যায় সেটাও নয় । এখানেই সার্থকতা লেখকের । সেই বিসেবে অরুন্ধতী রায় একজন সার্থক ঔপন্যাসিক বলা যায় । এটি উনার লেখা প্রথম উপন্যাস যা প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের ২১ টিরও বেশি দেশে । আর নান্দনিকতা যে কতটা যাদুর মতো কাজ করে একটি লেখার ক্ষেত্রে তার প্রমাণ পেয়েছি পুরো উপন্যাস জুড়েই তবে শেষের কিছু পৃষ্ঠা আমাকে তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে এবং বুঝিয়ে দিয়েছে ।

Tuesday, May 12, 2015

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ নির্ঝর দেবনাথ (জয়) এর ছোট গল্প "ছাড়পত্র"

"ছাড়পত্র"
ধরণঃ ছোট গল্প
লেখকঃ নির্ঝর দেবনাথ (জয়)
প্রকাশঃ দৈনিক ভোরের কাগজ, ০৩ এপ্রিল, ২০১৫ ইং 


গল্পের লেখকের সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় রয়েছে । তবে এই পরিচয়ের সূত্র ধরে যে আজ উনার গল্প নিয়ে লিখছি তা না । আমি নিজেও গল্পটি প্রকাশ পাওয়ার বেশ কিছু দিন পরেই পড়ি । তবে পড়ামাত্রই আমার মনে হয়েছে যে উনার গল্পটি নিয়ে কিছু লেখা যায় ।
আমরা যদি জন্মগ্রহণ করি তবে মৃত্যু আমাদের অবধারিত । জন্মের ক্ষেত্রে আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই । কার ঘরে, কার সন্তান হয়ে জন্ম নিব তা আমরা জানি না । আমরা জানি না যে আমরা হিন্দু বা মুসলিম কোন ধর্মের ঘরে জন্ম নিব । তবে মৃত্যুর বিষয়টি কিছুটা হলেও আলাদা । আমরা পৃথিবীতে আসতে চাই কি চাই না সে ব্যাপারেও আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয় না । এক প্রকার চাপিয়েই দেওয়া হয় জন্মের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আমাদের উপর । লেখক তার "ছাড়পত্র" নামক গল্পটিতে এই ধরণের খুব কঠিন এবং উত্তর না জানা একটি প্রশ্ন তুলে ধরেছেন । আপাতদৃষ্টিতে এই গল্পটি একটি আধুনিক ছোট গল্প হিসেবেই আমার কাছে মনে হয়েছে যার উপজীব্য বিষয় বর্তমান সমাজের এক সাধারণ নাগরিকের জীবন এবং তার চিন্তাধারা । নারীবাদ বিষয়টিও লক্ষ্য করলাম গল্পটির মাঝে । এর সাথে উঠে এসেছে পুঁজিবাদী বিশ্বে আমাদের অবস্থান এবং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা । উঠে এসেছে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এবং আতংকের নাম "পেট্রোল বোমা" এবং তার পরিণতি । সমাজের এবং ছাত্র সমাজের নৈতিক অবক্ষয় যা কলুষিত করছে আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা । তারও একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র লেখক তুলে ধরেছেন এখানে । মানুষের জীবনের সাধারণ চাওয়া এবং না পাওয়ার খেলা এবং তা নিয়েই ধৈর্য ধরে বেঁচে থাকা এবং সময়ের বিবর্তনে এক সময় সব কিছুরই মূল্যহীন হয়ে পড়া । তবে এই মূল্যহীন জীবনকেও কিভাবে কিছুটা মূল্যবান বানানো যায়, কিভাবে শুধুমাত্র প্রাণী হয়ে বেঁচে না থেকে কিছুটা মানুষ হওয়া যায় তার ইঙ্গিতও খুঁজে পেলাম এখানে । পুরো গল্প পড়ে মনে হয়েছে যে এখানে অস্তিত্ববাদেরও কিছুটা অস্তিত্ব আছে ।
গল্পটির নাম নিয়ে আমার একটু দ্বিধা ছিল তবে গল্প শেষ করার পর তা কেটে যায় । গল্পের নামকরণের সার্থকতা জানার জন্য আমাকে পুরো গল্পটা শেষ করতে হয়েছে ।
আমাদের চারপাশের পৃথিবী কখনো বদলায় না । বদলায় আমরা । আমাদের যখন মন খারাপ থাকে তখন মনে হয় আমাদের চারপাশ, আমাদের চারপাশের প্রকৃতিও আমাদের সাথে মন খারাপ করে রয়েছে । আবার যখন আমাদের মন ভালো থাকে তখন সেই প্রকৃতি এবং পরিবেশের রঙ আমাদের কাছে রঙিন মনে হয়, বড় বেশি রূপবতী মনে হয় । এই সাধারণ বাস্তবতাটা গল্পের দুটি অংশ পড়ে আমি অনুভব করেছি ।
এটি লেখকের প্রকাশিত প্রথম গল্প । উনার লেখা যথেষ্ট ভালো লেগেছে । খুব কম কথায় উনি অনেক কিছু আঁকার চেষ্টা করেছেন । উনার প্রতি আমার শুভকামনা এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন লেখা আমাদের উপহার দেবার আশা রইল ।
যারা গল্পটি পড়তে চান তাদের জন্য আমি লিংকটি দিয়ে দিচ্ছি । পত্রিকার ১০ম পৃষ্ঠায় গল্পটি আপনারা খুঁজে পাবেন ।

Link: http://www.bhorerkagoj.net/epaper/2015/04/03/

Saturday, May 9, 2015

Movie Review: "বাদশাহী আংটি" (২০১৪)

"বাদশাহী আংটি" (২০১৪)
Genre: Thriller, Mystery
Country: India
Language: Bengali
IMDB Rating: 6.5
My Rating: 5.5

ছোটবেলা থেকেই আম্মার অনুপ্রেরণায় "ফেলুদা" সিরিজের সিনেমাগুলো টিভিতে দেখা হতো । তখন তেমন বুঝতাম না । আবার দেখতে যে খুব একটা খারাপ লাগতো তাও না । বুদ্ধি হবার পর নিজ আগ্রহে যে কয়টা "ফেলুদা" সিরিজের সিনেমা আমার দেখা হয়েছে তার সব গুলোই সন্দীপ রায় পরিচালিত এবং সব্যসাচী চক্রবর্তী অভিনীত । তা সব্যসাচীকে উনার কণ্ঠস্বরের জন্য আমার আগে থেকেই বেশ ভালো লাগতো । তবে "বাদশাহী আংটি" সিনেমাটার প্রতি আগ্রহে আমার বেশ ছিল আবীর চট্টোপাধ্যায়ের কারণে । "ব্যোমকেশ" সিরিজের অঞ্জন দত্ত পরিচালিত সিনেমাগুলো দেখে আমি বলা যায় আবীর চট্টোপাধ্যায়ের মোটা দাগের একজন ভক্ত হয়ে গিয়েছি । সুতরাং "বাদশাহী আংটি" সিনেমাটি দেখার ক্ষেত্রে আমার আগ্রহের কোন কমতি ছিল না ।
"ব্যোমকেশ" চরিত্রে ধুতি আর পাঞ্জাবী পরিহিত আবীর চট্টোপাধ্যায়কে এই সিনেমায় বেশ অন্যরকমই মনে হয়েছে আমার কাছে । অভিনয় ভালো ছিল তবে কেমন যেন একটা মন্থর গতি অনুভব করেছি পুরো সিনেমা জুড়ে । কাহিনীটি খুব একটা ভালো লাগে নাই । হয়তো এর কারণ হতে পারে যে "ফেলুদা" সিরিজ আবার নতুন করে শুরু হল তাই । তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি কাহিনী নিয়ে বেশ হতাশ হয়েছি । এছাড়া সন্দীপ রায়ের পরিচালনা যথারীতি যেমন ছিল তেমনই মনে হয়েছে । এর পাশাপাশি পশ্চিম বঙ্গের শক্তিশালী অভিনেতাদের উপস্থিতি সিনেমাটি দেখার আগ্রহ বেশ বাড়িয়ে দিয়েছিল ।
এই সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি আংটি নিয়ে যা সিনেমার নাম দেখলে খুব সহজেই আন্দাজ করা যায় । সেই আংটি চুরি এবং উদ্ধার অভিযান সাথে আরও কিছু রহস্য নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে এই সিনেমার গল্পটি ।
যারা "ফেলুদার" ভক্ত তারা তো অবশ্যই সিনেমাটি দেখতে পারেন । এ কথা বলছি কারণ আমি নিজেও একজন ভক্ত ।

Torrent Link: https://kickass.to/badshahi-angti-2014-1cd-dvdrip-x264-5-1-aac-esub-ddr-exclusive-t10505937.html

আমার কবিতাঃ "প্রতিবাদ"

প্রতিবাদ
             তাকাদ্দুস আন্-নূর

আমি এরকমই ।
আজকের আমিকে আমি
গড়ে তুলেছি তিলে তিলে ।
জীবনের কিছু কথিত রঙ্গিন মুহূর্তে
তোমার রঙ্গিন আগমন ।
তোমার প্ররোচনায় যদি আজ নিজেকে
বদলাতে হয় তবে আমি আর আমিতে থাকি না ।
আমি পরিণত হয় অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়হীন
এক বেজন্মায় ।

Friday, May 8, 2015

TV Series Review: "ব্যোমকেশ" (২০১৪)

"ব্যোমকেশ" (২০১৪)
TV Series
Genre: Mystery, Thriller
Language: Bengali
Country: India

কোন একটি সিনেমা খুব ভালো লেগে গেলে দেখা যায় যে সেই সিনেমাটি শেষ হতে বেশি সময় লাগে না । সিনেমা শেষ হবার পর মনে হয় যে সিনেমাটি যদি আরও একটু বড় হতো তাহলে বেশ ভালো হতো । এই মনে হওয়া থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে কিছু একটা দেখার ইচ্ছে নিয়েই আমার টিভি সিরিজ দেখা শুরু । ছোটবেলায় যদিও বিটিভিতে বেশ অনেকগুলো সিরিজই দেখা হতো তবে তার অধিকাংশই আজ আর মনে নেই । অঞ্জন দত্তের "ব্যোমকেশ বক্সী" সিনেমাটি দেখেই আমি ব্যোমকেশের প্রেমে পড়ে যায় । যদিও ব্যোমকেশের উপর আমার কোন বই পড়া হয়ে উঠেনি । পরবর্তীতে 'আবার ব্যোমকেশ" এবং "সত্যান্বেষী" দেখার পরে ব্যোমকেশ দেখার ইচ্ছে আরও বেড়ে যায় । ইতিমধ্যেই এই সিরিজটির খবর পাই । ব্যোমকেশের হিন্দি একটা সিরিজও খুঁজে পাই তবে বাংলা পাওয়াতে আর হিন্দিটি দেখার তেমন জোর পেলাম না মন থেকে । তাই এই বাংলা সিরিজটিই দেখা শুরু করলাম । যা আমার দেখা প্রথম কোন বাংলা সিরিজ ।
এই সিরিজের প্রথম পর্বটি শুরু হয়েছে খুবই সাদামাটাভাবে তবে দ্বিতীয় পর্ব থেকে আমার আকর্ষণ বেড়ে যায় । যারা দীর্ঘ সময় নিয়ে দেখতে ভালোবাসেন তারা বেশ ভালো মজা পাবেন কারণ এই সিরিজটির এক একটি পর্ব শেষ করতে আমাকে ব্যয় করতে হয়েছে পুরো দুই ঘণ্টা দশ মিনিট । কোন কোন পর্বের ক্ষেত্রে সময় আরও বেশি লেগেছে । আবার যারা মনে করেন যে ছোট কাহিনী টেনে বড় করা হয়েছে তারাও এই দোষে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেন এই সিরিজটিকে । তবে আমি দোষ দিতে পারিনি । মেনে নিয়েছি যে সিরিজটিতে অনেক দীর্ঘসূত্রতা আছে তবে তার কারণ হিসেবে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে সেটা হল ব্যোমকেশ আসলে শুধু গোয়েন্দা সিরিজ নয় বরং এটি গোয়েন্দা কাহিনীর বাইরেও আরও অসংখ্য বিষয় তুলে ধরেছে । এই সিরিজে তৎকালীন সময়, ঐ সময়ের চাল-চলন, বেশভূষা সহ বলা যায় ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে । তুলে এসেছে সাংসারিক নানা দিক, প্রেম-ভালবাসা, বন্ধুত্ব ইত্যাদি । আর কিছু কিছু কাহিনী সত্যিই অসাধারণ মনে হয়েছে । ধুতি পোশাকটির প্রেমে পড়ে গিয়েছি আমি নিজে এই সিরিজটি দেখে ।
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসাধারণ একটি সৃষ্টি এটি । এই সিরিজে ব্যোমকেশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন গৌরব চক্রবর্তী, অজিতের চরিত্রে সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সত্যবতীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋদ্ধিমা ঘোষ । এর বাইরেও দেখা গিয়েছে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বিখ্যাত অনেক অভিনেতাকেই । এটি বর্তমানে প্রচারিত হচ্ছে Colors Bangla টিভি চ্যানেলে প্রতি বৃহস্পতি, শুক্র এবং শনিবার রাত ৯ঃ৩০ মিনিটে । এর বাইরেও চাইলে Youtube থেকেই সবগুলো পর্ব দেখা যায় । আমার মতে সেটাই বরং সহজ উপায় ।

Thursday, May 7, 2015

Movie Review: "Rahasya" (2015)

"Rahasya" (2015)
Genre: Mystery, Thriller
Country: India
Language: Hindi
IMDB Rating: 7.8
My Rating: 7.0

ভারতের রহস্য সমৃদ্ধ সিনেমাগুলো দেখতে আমার ভালোই লাগে তার কারণ তাদের এই সিনেমাগুলোর সাথে আমাদেরও কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যায় । আমাদের শিল্প, সংস্কৃতির সাথে তাদের অনেক মিল থাকার কারণে হয়তো আমার এই বিশেষ ভালোলাগা । আর এই সিনেমাটা দেখার অন্যতম কারণ হল Kay Kay Menon যার বেশ ভালো ভক্ত আমি । উনার অভিনয়ের কারণেই আমার এই সিনেমাটি দেখতে বসা । সিনেমাটি দেখা শুরু করার পর থেকেই রহস্যের গন্ধ পাচ্ছিলাম । তবে কাহিনী যতই এগিয়ে গিয়েছে মজা ততই বেড়ে গিয়েছে । Kay Kay Menon এর পাশাপাশি এই সিনেমায় আরও বেশ কয়েকজন নাম করা অভিনেতা এবং অভিনেত্রী রয়েছে ।
Manish Gupta সম্পর্কে যদি কিছু না বলি তবে এই সিনেমার পরিচালকের প্রতি আমার অন্যায় করা হয়ে যাবে বড্ড বেশি । উনার লেখা "Sarkar" (2005) আমার দেখা প্রথম সিনেমা । এই একটি সিনেমায় যথেষ্ট উনার ভক্ত হবার জন্য । অসাধারণ লেগেছিল সিনেমাটি আমার কাছে । উনার পরিচালিত আমার দেখা প্রথম সিনেমা ছিল "The Stoneman Murders" (2009) যেখানে আবারও Kay Kay Menon এর দেখা পাওয়া যায় । সেই সিনেমাটিও বেশ রহস্যে ভরা ছিল । এছাড়াও যে কটি সিনেমার সাথে উনি জড়িত তার সবগুলোই কম বেশি রহস্য এবং থ্রিলার সম্পর্কিত ।
"Rahasya" সিনেমাটির গল্প শুরু হয়েছে এক ডাক্তার দম্পতির মেয়ের খুনের ঘটনা দিয়ে । পরবর্তীতে এই খুনের ঘটনার তদন্ত চলে যায় এক CBI অফিসারের হাতে এবং উনার তদন্ত শুরু হবার পর থেকেই রহস্যের জাল ছড়াতে শুরু করে এবং সেই অফিসারই আবার সেই রহস্যের জাল গুটিয়ে আনেন । তবে সিনেমার শেষ অংশটি কিছুটা হতাশ করেছে আমাকে । রহস্যের কিনারা করার বিষয়গুলো আমার কাছে যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি ।
আমাদের এই শহুরে ব্যস্ত জীবনে আমরা যে কতটা যান্ত্রিক বনে গিয়েছি যে নিজের ছেলে-মেয়ে বা স্বামী-স্ত্রীর প্রতি কোন খেয়ালই রাখি না বা রাখতে পারি না । যান্ত্রিক জীবনের খারাপ দিকগুলো উঠে এসেছে এই সিনেমায় । অভিজাত শ্রেণীর নানান পাপাচারের দৃশ্য এবং আমাদের সম্পর্কের ভণ্ডামি চিত্রায়িত হয়েছে । আর পাপ যে কাউকেই ছাড় দেয় না তারও একটা প্রমাণ দিয়েছেন পরিচালক Manish Gupta ।
এক কথায় বলা যেতে পারে বেশ উপভোগ্য একটি সিনেমা । আর যারা রহস্য বা থ্রিলারধর্মী সিনেমা পছন্দ করেন তারা বেশ ভালো মজা পাবেন সিনেমাটি দেখে ।

Torrent Linl: https://kickass.to/rahasya-2015-hindi-720p-dvdrip-999mb-zaeem-t10485202.html

Monday, May 4, 2015

Movie Review: "Ugramm" (2014)

"Ugramm" (2014)
Genre: Action, Drama, Thriller
Country: India
Language: Kannada
IMDB Rating: 8.2
My Rating: 7.8

এই সিনেমাটি দেখার ইচ্ছে জাগে মূলত একটি রিভিউ পড়ে । এমনিতেই Telegu সিনেমার প্রতি আমার বেশ ভালো আকর্ষণ । সেই আকর্ষণ থেকেই দেখা । ভারতের Kannada Film Industry এর অত্যন্ত সফল একটি ছবি । অন্য ভাষায় বলা যায় যে এটি একটি South Indian সিনেমা । ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, সিনেমাটি মুক্তি পায় এবং মুক্তি পাবার এক সপ্তাহের মাঝে সিনেমাটি আয় করে US$870,000 শুধুমাত্র Karnataka তেই এবং একটানা ১২৫ দিন Karnataka এর বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে চলে ।
অ্যাকশনধর্মী সিনেমাগুলোই আমাকে বেশী টেনে থাকে তবে আকর্ষণের আরও একটি বড় কারণ সিনেমাগুলো উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু সংলাপ । আপাতদৃষ্টিতে যেগুলো শুনতে ভালোই লাগে তবে বেশ অবিশ্বাস্য মনে হয় । তবে বেশ মজার বিষয় এই সিনেমায় সেই রকম অ্যাকশন খুঁজে পেলেও সেই রকম অবিশ্বাস্য সংলাপ খুব একটা খুঁজে পাইনি । সিনেমার মূল আকর্ষণ আমার মতে "শব্দ" । অসাধারণ শব্দের কাজ সিনেমা দেখার মজা বেশ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ।
সিনেমার শুরু যে রকমই হোক না কেন অন্যান্য সিনেমার মতো নায়ক বা নায়িকার আগমন সেভাবে ফলাও করে দেখানো হয়নি । সিনেমাটির কাহিনী শুরু হয়েছে হিন্দু একটি পৌরাণিক কাহিনী বলার মধ্যে দিয়ে । সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র নায়ক হলেও কাহিনী আবর্তিত হয়েছে নায়িকাকে কেন্দ্র করেই । পরিবারের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা, পিতার অবাধ্যতা এবং সন্তানের কাছে পিতার গোপনীয়তা নায়িকাকে জীবনের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয় অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে আসাতে । সেখানে ত্রাণকর্তা হিসেবে নায়কের আগমন ঘটে । এই সিনেমায় প্রেমের দৃশ্য খুবই সামান্য । যারা Romance তেমন পছন্দ করেন না তারা এই দিক থেকে বেশ স্বস্তিতে থাকবেন । যেমনটা আমি ছিলাম ।
সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন Sri Murali এবং Haripriya এবং রচনা এবং পরিচালনা করেছেন Prashanth Neel ।
সন্ত্রাসের গ্রাস, হিংস্রতা, হিংসা, প্রতিশোধপরায়নতা কিভাবে মানুষের জীবন পাল্টে ফেলতে পারে তা উঠে এসেছে এই সিনেমার মূল চরিত্রগুলোতে । আপাতদৃষ্টিতে আমরা পৃষ্ঠভাগের চিত্র দেখেই অনেক মন্তব্য করে বসি অনেক কিছু নিয়ে কিন্তু যতই গভীরে প্রবেশ করি ততই আমাদের ধারণা পাল্টে যাবার মতো ঘটনা দেখতে হয় । এই সিনেমায় নিজ দেশ সম্পর্কে নায়িকার অনুভূতিও ছিল সেরকম । নায়িকার চরিত্রের মাধ্যমে উঠে এসেছে দেশপ্রেমের বিষয়টি । সিনেমাটি না দেখলে ভালো একটা সিনেমা দেখার মজা থেকে বঞ্চিত হতাম । এক কথায় বলা যায় আশার থেকে বেশী মজা পেয়েছি সিনেমাটি দেখে ।
সিনেমাটি Youtube এ এবং Torrent এ পাওয়া যাবে । তবে Youtube থেকে ডাউনলোড করে Subtitle নিয়ে খুবই সমস্যায় পড়েছিলাম আবার Torrent থেকে ডাউনলোড করতে গিয়ে Seeder এর জন্য হাহাকার করতে হয়েছে । Youtube থেকে নামানো প্রিন্ট এর ক্ষেত্রে Subtitle টি 43 Seconds আগে পিছে করে দেখতে হবে । আর Torrent থেকে নামালে এই ধরণের কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না তবে Seeder নিয়ে সমস্যা হতেও পারে ।

Torrent Link: https://kickass.to/ugramm-kannada-movie-2014-dvd-rip-t9217996.html

Movie Review: "Ulidavaru Kandanthe" (2014)

Original Title: "Ulidavaru Kandanthe" (2014)
English Title: "As Seen by the Rest"
Genre: Comedy, Crime, Drama
Country: India
Language: Kannada
IMDB Rating: 8.3
My Rating: 9.0

"অবস্থানগত দৃষ্টি ! অবস্থান ভেদে আমাদের প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যেকের প্রতি আলাদা । তাই কোনটা বিশ্বাস করবো ? কাকে সঠিক মানুষ বলে মনে করবো ? প্রত্যেকটি বিষয়ই পরিবর্তিত হয়ে যায় যখন আমরা একই বিষয় ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি ।"
"সাগরের ঢেউ দ্বারা নিকটস্থ সমুদ্র সৈকত প্রতিনিয়ত পরিষ্কার হয় । কিন্তু সাগর কি পারে তার কূলের সব ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে ?"
দুটি উক্তি যা আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছে এই সিনেমার । সিনেমাটি যখন দেখা শুরু করেছিলাম তখন আসলে ভেবে উঠতে পারি নাই এই সিনেমাটি নিয়ে আমি লিখবো । কিন্তু সিনেমাটি দেখতে দেখতে যতই এগিয়ে গিয়েছি ততই উৎসাহ পেয়েছি সিনেমাটি নিয়ে লেখার তবে একই সাথে কূল কিনারা খুঁজে পাচ্ছিলাম না যে আসলে কিভাবে সিনেমাটিকে সংজ্ঞায়িত করবো । সিনেমাটি এমনভাবে বানানো হয়েছে যে এটাকে যে কোন সংজ্ঞা দ্বারাই সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব । আসলে আমি খুব অবাক হয়েছি । দক্ষিন ভারতের সিনেমা যে এতোটা উচু মানের হতে পারে তা ভাবতে পারিনি ।
এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে আসলে কে কে অভিনয় করেছে সেটা ঠিক করে বলা বেশ মুশকিলের বিষয় । তবে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন Rakshit Shetty, Kishore, Tara, Achyuth Kumar, Rishab Shetty এবং Sheethal Shetty । সিনেমাটি রচনা এবং পরিচালনা করেছেন Rakshit Shetty নিজেই । এর বাইরেও করেছেন অসাধারণ অভিনয় । সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একটি ঘটনা নিয়ে কিন্তু কি সেই ঘটনা তা সিনেমা না শেষ করা পর্যন্ত বুঝা সম্ভব নয় । এই কারণে প্রথমে এখানে আমি কিছুটা MacGuffun Plot আছে বলে মনে করেছিলাম । কারণ মাঝখানে আমার শঙ্কা জেগেছিল যে শেষ পর্যন্ত হয়তো পরিচালক আসল ঘটনাটিই দেখাবেন না । কিন্তু উনি আমার শেষ রক্ষে করেছেন । সিনেমার আসল কাহিনীটি উনি তুলে ধরেছেন ।
পাঁচ ব্যক্তির ভিন্ন পাঁচটি গল্প বলেছেন ভিন্ন পাঁচজন ব্যক্তি । এই পাঁচ ভিন্ন ব্যক্তির বলা ভিন্ন ভিন্ন কাহিনী গিয়ে মিলিত হয়েছে একটি বিন্দুতে । লাশ পড়ে তিনটি, মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান একজন, অবাক করা প্রেমের একজন প্রেমিকা হারায় তার প্রেমিককে, না ফেরা সন্তানের অপেক্ষায় মা বসে থাকে খাবার নিয়ে । অনেকটা এই রকমই ইতি টানা হয়েছে সিনেমাটিতে ।
যারা অ্যাকশনধর্মী সিনেমা পছন্দ করেন তারা বেশ হতাশ হবেন তবে এই সিনেমায় ড্রামা, থ্রিলার, প্রেম, শিশুতোষ এবং Musical ছবির সব স্বাদই খুঁজে পাবেন । সিনেমার আবহ সঙ্গীত এবং গানের মিউজিক এবং কথাগুলো অসাধারণ লেগেছে ।
বেশ ধীর গতির একটি সিনেমা যে সিনেমাকে শুধু আমি একটি সিনেমা বলতে পারছি না । এই সিনেমাটিকে আমি শিল্প হিসেবে গণ্য করছি । যারা এই ধরণের সিনেমা দেখে অভ্যস্ত আশা করি তারা সিনেমাটি দেখে হতাশ হবেন না । হয়তো আপনিও আমার মতোই অবাক হবেন সম্পূর্ণ সিনেমাটি শেষ করে । সিনেমাটি প্রথম প্রদর্শিত হয় কান চলচ্চিত্র উৎসবে এবং মুক্তি পায় ২৮ মার্চ ২০১৪ ইং এ । যদিও সিনেমাটির কাহিনীর সাথে মিল পাওয়া যায় ১৯৫০ সালের জাপানী সিনেমা "Rashomon" এর সাথে । তবে আমার দেখা দক্ষিন ভারতের সেরা সিনেমা হিসেবে আমি এটিকে গণ্য করছি ।

Torrent Link: http://techsouth.org/ulidavaru-kandante-2014-kannada-720p-movie-killerkill-t9510071.html

Movie Review: "ব্যোমকেশ ফিরে এলো" (২০১৪)

"ব্যোমকেশ ফিরে এলো" (২০১৪)
Genre: Thriller, Mystery
Country: India
Language: Bengali
IMDB Rating: 7.4
My Rating: 7.5

ব্যোমকেশ বক্সী, শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের অসাধারণ একটি সৃষ্টি । ব্যোমকেশকে দেখতে হলে একটু আলাদা করেই দেখতে হয় অন্যান্য গোয়েন্দা চরিত্র থেকে । কারণ শরদিন্দুর ব্যোমকেশ বহন করে কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য, কিছু স্বতন্ত্র বিষয় যা অন্য গোয়েন্দা চরিত্রে দেখা যায় না । ব্যোমকেশ একজন গোয়েন্দা হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে গোয়েন্দা হিসেবে মনে করেন না বরং নিজেকে উনি সত্যান্বেষী হিসেবে মনে করেন এবং উপস্থাপনও করেন । ব্যোমকেশ নানান প্রয়োজনে তৎকালীন ব্রিটিশ পুলিশের সহায়তা নিলেও তার মাঝে বাঙ্গালী এবং ভারতীয় হিসেবে যে চেতনা তার কোন কমতি ছিল না । উনি চট্টগ্রামে সংঘটিত মাস্টারদা সূর্য সেনের আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন । গোয়েন্দা হলেও উনি সম্পূর্ণ বাঙ্গালিয়ানা ধরে রেখেছিলেন, হিন্দুদের জাতীয় পোশাক ধুতি এবং পাঞ্জাবীই পরিধান করতেন । ব্যোমকেশকে আরও একটি কারণে অন্য গোয়েন্দা চরিত্র থেকে আলাদা করে দেখতে হয় । কারণ উনি যে সকল অপরাধীকেই ধরে পুলিশে সোপর্দ করতেন তা কিন্তু নয় বরং প্রয়োজন এবং অবস্থা বুঝে উনি অনেক অপরাধীকেই ছেড়ে দিয়েছেন । অনেক অপরাধীকে বাঁচানোর জন্য পুলিশের কাছেও মিথ্যে বলেছেন এমন উদাহরণও রয়েছে ।
ব্যোমকেশকে বড় পর্দায় আনার ক্ষেত্রে আমার মতে সবচেয়ে সফল ব্যক্তিটির নাম অঞ্জন দত্ত । ২০১০ সালের "ব্যোমকেশ বক্সী" এবং ২০১২ সালে "আবার ব্যোমকেশ" এর পরে অঞ্জন দত্তের পরিচালনা এবং প্রযোজনায় ২০১৪ সালের "ব্যোমকেশ ফিরে এলো" আরও একটি সফল ছবি । এই সিনেমার কাহিনী চিত্রায়িত হয়েছে শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের "ব্যোমকেশ বক্সী" সিরিজের "বেণীসংহার" গল্পের উপর ভিত্তি করে ।
আগের দুটো সিনেমার মতো এই সিনেমাতেও অঞ্জন দত্ত কেন্দ্রীয় চরিত্রে আবীর চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং উষসী চক্রবর্তীকেই নিয়েছেন । উনাদের প্রাঞ্জল অভিনয় এবং অঞ্জন দত্তের নিখুঁত পরিচালনায় সিনেমাটি যেন অন্য রকম প্রান পেয়েছে যা ঋতুপর্ণ ঘোষের "সত্যান্বেষী" সিনেমার মধ্যে পাইনি । আবীর চট্টোপাধ্যায়কেই আমার এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য একদম যুতসই মনে হয়েছে ।
এই সিনেমার গল্পটি আবর্তিত হয়েছে একটি ধনী পরিবারের কর্তা বাবুর খুনের রহস্য উদঘাটন নিয়ে । এই সিনেমাকে শুধু রহস্য বা গোয়েন্দা সিনেমা বললে আসলে ভুল হবে । এই সিনেমায় উঠে এসেছে তৎকালীন সময়টা, উঠে এসেছে একজন নারী মনের সাংসারিক চাহিদা এবং আমাদের সংসারের দৈনন্দিন খুঁটিনাটি সমস্যা, ঝগড়া ইত্যাদি ।
ব্যোমকেশ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা গোয়েন্দা চরিত্র যা পরিচালকের নিখুঁত হাতের ছোঁয়ায় রুপ পেয়েছে বড় পর্দায় । এবং আমাদের আনন্দ, তৃপ্তি এবং জ্ঞানের চাহিদা পূরণ করেছে ।
অঞ্জন দত্তের অন্যান্য ব্যোমকেশের সিনেমার থেকে এই সিনেমাটিকে আমার একটু দ্রুত মনে হয়েছে । এটি যথেষ্ট ভালো একটি সিনেমা এবং সিনেমা দেখার যে মজা সেই মজা আমাকে দিয়েছে এবং আমার গত এক বছরের অপেক্ষার প্রহর গণনা করা বন্ধ করেছে । এই সিনেমাটি দেখার পরে আবারও আমার অপেক্ষার পালা শুরু হল । অপেক্ষা আবার কবে অঞ্জন দত্তের পরিচালনায় আরও একটি ব্যোমকেশ পাবো ।
বর্তমানে WEBRip ছাড়া অন্য কোন প্রিন্ট মনে হয় নেই ইন্টারনেটে । তবে এই প্রিন্টটা দেখার মতো, যথেষ্ট ভালো । সাচ্ছন্দে দেখতে পারেন ।

Torrent Link: https://kickass.to/byomkesh-phire-elo-hevc-ddr-t10505959.html