মূল বইঃ "Die Verwandlung"
লেখকঃ Franz Kafka
ইংরেজি বইঃ "The Metamorphosis"
ধরণঃ উপন্যাসিকা
বাংলা বইঃ “রূপান্তর”
অনুবাদঃ কবীর চৌধুরী
প্রকাশনাঃ বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
বর্তমান পুঁজিবাদী তথাকথিত আধুনিক সমাজে পারিবারিক সম্পর্কগুলো কেমন যেন ঝাপসা ঝাপসা । মনে হয় কেমন যেন উঁচু-নিচু দেয়াল তৈরি হয়ে গিয়েছে সম্পর্কগুলোর মাঝে । এই সমাজে আমাদের পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে আমরা যা বলেই সম্বোধন করি না কেন, সেটা রক্তের সম্পর্ক হোক আর নাড়ীর সম্পর্কই হোক, সম্পর্কগুলো আসলে টিকে আছে অর্থের উপর ভিত্তি করে । যেন অর্থ নেই তো কোন সম্পর্ক নেই এমন একটা অবস্থা । Franz Kafka এর “The Metamorphosis” বইটিতে সেই দিকেই আলোকপাত করা হয়েছে বলে মনে হয় ।
বইটির গল্পটি শুরু হয়েছে এই গল্পের প্রধান চরিত্র Gregor Samsa এর ঘুম ভাঙ্গার পর থেকে । ঘুম ভেঙ্গেই সে বুঝতে পারে যে সে আর মানুষের রুপে নেই বরং একটি পতঙ্গের রুপ নিয়েছে । তার শারীরিক পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই তবে তার মস্তিষ্ক মানুষের রুপেই রয়ে যায় এবং স্বাভাবিক মানুষের মস্তিষ্কের মতোই কাজ করতে থাকে । পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির যদি এই অবস্থা হয় তবে কি আর সংসার চলে ? আর সংসার না চললে কি সেই ব্যক্তিটির আর গুরুত্ব থাকে পরিবারে ? এই ব্যক্তির চাকরিটিও চলে যায় তার এই বদলে যাওয়া রুপের কারণে । পরিবারের ভরণ পোষণ করা তো দূরে থাক বরং সে পরিণত হয় পরিবারের বোঝা হিসেবে । গল্পের মূল আলোচ্য বিষয় এটিই এই বইয়ের ।
তারপরেও বইটির মাঝে খুঁজে পেলাম যে, কিভাবে Gregor Samsa এর প্রতি তার অফিসকর্তা এমনকি পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়, কিভাবে তারা গ্রহণ করে বিষয়টিকে, কিভাবে এই ব্যক্তিটি তার সদ্য পাওয়া নতুন রুপের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করে । কিন্তু এতকিছুর পরেও তার পরিবারের জন্য তার যে ভালোবাসা সেটির কমতি পড়েনি ।
গল্পটির প্রধান চরিত্রের নাম Gregor Samsa, তার একমাত্র বোনের চরিত্রও উঠে এসেছে এই গল্পে যার নাম Greta Samsa এবং আরও দুটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল তাদের বাবা-মা Mr. Samsa এবং Mrs. Samsa । বইটিতে পুরো গল্পটিই বলা হয়েছে Gregor Samsa এর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে । সে যেভাবে যেটা দেখেছে সেভাবেই এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে । খুব সহজ-সরল এবং প্রাঞ্জল ভাষার একটি উপন্যাসিকা এটি । পড়তে পাঠকের একটুও সমস্যা হবার কথা নয় ।
গল্পটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রের একটি পতঙ্গে পরিণত হওয়াটি আসলে রুপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে হয়েছে । একজন মানুষ যদি পরিবারের ভরণ পোষণের ক্ষমতা হারিয়ে পরিবারের বোঝা হয়ে যায়, যার দেখাশুনা করার জন্য একজনের প্রয়োজন হয় তখন সেটি আসলে আমাদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় । সে আমাদের ভাই হোক বা বোন হোক বা বাবা-মা হোক, একটা সময় গিয়ে আমরা মনে মনে তাদের মৃত্যু ঠিকই কামনা করে থাকি । টাকার জন্য মানুষ আসলে নিজের সম্পর্কগুলোকে ভুলে যায় । আমরা ভুলে যেতে পারি এটাই প্রমাণ করে যে আমরা মানুষ । আমাদের অর্থ আয় করার রাস্তা কোনভাবে বন্ধ হয়ে যাক এটা আমরা কখনোই চাই না । আর যদি আয় বন্ধ হয়ে যাবার কোন সম্ভাবনা থাকে তবে সেগুলোকে আমরা রোধ করে থাকি । এই গল্পটিতেও এমন কিছু করুণ ঘটনা পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হয়েছে ।
গল্পটির যেটি আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে সেটি হল Gregor Samsa এর কথা বলতে না পারা বা তার কথা অন্য কারো না বুঝা কিন্তু তার অন্য সকলের কথা বুঝতে পারার ক্ষমতা । সে নীরবে শুনে চলে তার পরিবারের কথা, সুখ-দুঃখের কথা । সে নীরবে শুনতে থাকে তাকে নিয়ে পরিবারের চিন্তা-ভাবনা । নীরবে সেগুলো নিয়ে চিন্তা করার অনেক সময়ও সে পায় । পুরো গল্পটি শেষ করার পর লক্ষ্য করলাম যে গল্পের একদম শেষে লেখক প্রথমবারের মতো Gregor Samsa এর পরিবারে খুশির দৃশ্যের আগমন ঘটায় । এটার কারণ বুঝতে আমার বেশি সময় লাগেনি । তবে যখন কারণটি বুঝতে পারলাম তখন মনটা বিষিয়ে গেল বাস্তবতা চিন্তা করে । বাস্তবতার সম্মুখীন হওয়াটা যেমন কঠিন তেমনি বাস্তবতা সম্পর্কে পড়াও অনেক কঠিন মনে হয় ।
মূল গল্পটি লেখা হয়েছে জার্মান ভাষায় এবং বইটি প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে জার্মান ভাষাতেই । এরপরে একে একে পৃথিবীর নানান ভাষায় বইটি অনুবাদ করা হয় । বইটির একটি অনুবাদ আমাদের বাংলা ভাষাতেও রয়েছে । বাংলা অনুবাদটি করেছেন কবীর চৌধুরী এবং প্রকাশ করেছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ২০০৯ সালে । বইটির নাম “রূপান্তর” । আমি এই অনুবাদটিই পড়লাম । এই বইটি আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবেও বিবেচিত হয় । বইটিতে শ্রেণী বৈষম্য, অস্তিত্ববাদ এর মতো থীমগুলো উঠে এসেছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে ।
আমরা আধুনিক যুগের মানুষ, তাই আধুনিক সমাজে আমাদের বসবাস । অধুনা এই সমাজে আমাদের সম্পর্কগুলোকে আমরা কি কখনো ব্যবচ্ছেদ করে দেখেছি ? মনে হয় না । বইটিতে লেখক আমাদের এই সমাজের পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে ব্যবচ্ছেদ করে দেখিয়েছেন । বইটি পড়লে আপনি নিজেও আপনার সাথে সম্পর্কিত সম্পর্কগুলোর ব্যবচ্ছেদ করার একটা ধারণা পেয়ে যে যাবেন না তা কে বলতে পারে ।
লেখকঃ Franz Kafka
ইংরেজি বইঃ "The Metamorphosis"
ধরণঃ উপন্যাসিকা
বাংলা বইঃ “রূপান্তর”
অনুবাদঃ কবীর চৌধুরী
প্রকাশনাঃ বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
বর্তমান পুঁজিবাদী তথাকথিত আধুনিক সমাজে পারিবারিক সম্পর্কগুলো কেমন যেন ঝাপসা ঝাপসা । মনে হয় কেমন যেন উঁচু-নিচু দেয়াল তৈরি হয়ে গিয়েছে সম্পর্কগুলোর মাঝে । এই সমাজে আমাদের পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে আমরা যা বলেই সম্বোধন করি না কেন, সেটা রক্তের সম্পর্ক হোক আর নাড়ীর সম্পর্কই হোক, সম্পর্কগুলো আসলে টিকে আছে অর্থের উপর ভিত্তি করে । যেন অর্থ নেই তো কোন সম্পর্ক নেই এমন একটা অবস্থা । Franz Kafka এর “The Metamorphosis” বইটিতে সেই দিকেই আলোকপাত করা হয়েছে বলে মনে হয় ।
বইটির গল্পটি শুরু হয়েছে এই গল্পের প্রধান চরিত্র Gregor Samsa এর ঘুম ভাঙ্গার পর থেকে । ঘুম ভেঙ্গেই সে বুঝতে পারে যে সে আর মানুষের রুপে নেই বরং একটি পতঙ্গের রুপ নিয়েছে । তার শারীরিক পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই তবে তার মস্তিষ্ক মানুষের রুপেই রয়ে যায় এবং স্বাভাবিক মানুষের মস্তিষ্কের মতোই কাজ করতে থাকে । পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির যদি এই অবস্থা হয় তবে কি আর সংসার চলে ? আর সংসার না চললে কি সেই ব্যক্তিটির আর গুরুত্ব থাকে পরিবারে ? এই ব্যক্তির চাকরিটিও চলে যায় তার এই বদলে যাওয়া রুপের কারণে । পরিবারের ভরণ পোষণ করা তো দূরে থাক বরং সে পরিণত হয় পরিবারের বোঝা হিসেবে । গল্পের মূল আলোচ্য বিষয় এটিই এই বইয়ের ।
তারপরেও বইটির মাঝে খুঁজে পেলাম যে, কিভাবে Gregor Samsa এর প্রতি তার অফিসকর্তা এমনকি পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়, কিভাবে তারা গ্রহণ করে বিষয়টিকে, কিভাবে এই ব্যক্তিটি তার সদ্য পাওয়া নতুন রুপের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করে । কিন্তু এতকিছুর পরেও তার পরিবারের জন্য তার যে ভালোবাসা সেটির কমতি পড়েনি ।
গল্পটির প্রধান চরিত্রের নাম Gregor Samsa, তার একমাত্র বোনের চরিত্রও উঠে এসেছে এই গল্পে যার নাম Greta Samsa এবং আরও দুটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল তাদের বাবা-মা Mr. Samsa এবং Mrs. Samsa । বইটিতে পুরো গল্পটিই বলা হয়েছে Gregor Samsa এর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে । সে যেভাবে যেটা দেখেছে সেভাবেই এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে । খুব সহজ-সরল এবং প্রাঞ্জল ভাষার একটি উপন্যাসিকা এটি । পড়তে পাঠকের একটুও সমস্যা হবার কথা নয় ।
গল্পটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রের একটি পতঙ্গে পরিণত হওয়াটি আসলে রুপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে হয়েছে । একজন মানুষ যদি পরিবারের ভরণ পোষণের ক্ষমতা হারিয়ে পরিবারের বোঝা হয়ে যায়, যার দেখাশুনা করার জন্য একজনের প্রয়োজন হয় তখন সেটি আসলে আমাদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় । সে আমাদের ভাই হোক বা বোন হোক বা বাবা-মা হোক, একটা সময় গিয়ে আমরা মনে মনে তাদের মৃত্যু ঠিকই কামনা করে থাকি । টাকার জন্য মানুষ আসলে নিজের সম্পর্কগুলোকে ভুলে যায় । আমরা ভুলে যেতে পারি এটাই প্রমাণ করে যে আমরা মানুষ । আমাদের অর্থ আয় করার রাস্তা কোনভাবে বন্ধ হয়ে যাক এটা আমরা কখনোই চাই না । আর যদি আয় বন্ধ হয়ে যাবার কোন সম্ভাবনা থাকে তবে সেগুলোকে আমরা রোধ করে থাকি । এই গল্পটিতেও এমন কিছু করুণ ঘটনা পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হয়েছে ।
গল্পটির যেটি আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে সেটি হল Gregor Samsa এর কথা বলতে না পারা বা তার কথা অন্য কারো না বুঝা কিন্তু তার অন্য সকলের কথা বুঝতে পারার ক্ষমতা । সে নীরবে শুনে চলে তার পরিবারের কথা, সুখ-দুঃখের কথা । সে নীরবে শুনতে থাকে তাকে নিয়ে পরিবারের চিন্তা-ভাবনা । নীরবে সেগুলো নিয়ে চিন্তা করার অনেক সময়ও সে পায় । পুরো গল্পটি শেষ করার পর লক্ষ্য করলাম যে গল্পের একদম শেষে লেখক প্রথমবারের মতো Gregor Samsa এর পরিবারে খুশির দৃশ্যের আগমন ঘটায় । এটার কারণ বুঝতে আমার বেশি সময় লাগেনি । তবে যখন কারণটি বুঝতে পারলাম তখন মনটা বিষিয়ে গেল বাস্তবতা চিন্তা করে । বাস্তবতার সম্মুখীন হওয়াটা যেমন কঠিন তেমনি বাস্তবতা সম্পর্কে পড়াও অনেক কঠিন মনে হয় ।
মূল গল্পটি লেখা হয়েছে জার্মান ভাষায় এবং বইটি প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে জার্মান ভাষাতেই । এরপরে একে একে পৃথিবীর নানান ভাষায় বইটি অনুবাদ করা হয় । বইটির একটি অনুবাদ আমাদের বাংলা ভাষাতেও রয়েছে । বাংলা অনুবাদটি করেছেন কবীর চৌধুরী এবং প্রকাশ করেছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ২০০৯ সালে । বইটির নাম “রূপান্তর” । আমি এই অনুবাদটিই পড়লাম । এই বইটি আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবেও বিবেচিত হয় । বইটিতে শ্রেণী বৈষম্য, অস্তিত্ববাদ এর মতো থীমগুলো উঠে এসেছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে ।
আমরা আধুনিক যুগের মানুষ, তাই আধুনিক সমাজে আমাদের বসবাস । অধুনা এই সমাজে আমাদের সম্পর্কগুলোকে আমরা কি কখনো ব্যবচ্ছেদ করে দেখেছি ? মনে হয় না । বইটিতে লেখক আমাদের এই সমাজের পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে ব্যবচ্ছেদ করে দেখিয়েছেন । বইটি পড়লে আপনি নিজেও আপনার সাথে সম্পর্কিত সম্পর্কগুলোর ব্যবচ্ছেদ করার একটা ধারণা পেয়ে যে যাবেন না তা কে বলতে পারে ।

No comments:
Post a Comment