Search This Blog

Friday, October 30, 2015

Deranged: মহামারী নিয়ে আরও একটি অসাধারণ কোরিয়ান চলচ্চিত্র

এক নজরে "Deranged" (2012)
***************************
Original Title: “Yeongasi”
English Title: “Deranged” (2012)
Leading Cast: Kim Myung-min, Kim Dong-wan, Moon Jung-hee, Lee Ha-nui
Genre: Drama, Thriller
Country: South Korea
Language: Korean
IMDB Rating: 6.3
My Rating: 7.0
***************************


পরিচালক  Jeong-woo Park তাঁর “Deranged” সিনেমায় এমনই এক মহামারীর চিত্র তুলে ধরেছেন যার দ্বারা একবার সংক্রমিত হলে চিকিৎসা ছাড়া রোধ করার কোন উপাই নেই । আপনি নিয়ন্ত্রণ হারাবেন নিজের শরীরের, মস্তিষ্কের এবং আপনার সর্বশেষ পরিণাম হবে মৃত্যু । মৃত্যু হবে পানিতে ডুবে নিজে না চাইলেও নতুবা আপনার মুখ অথবা গুহ্যদ্বার দিয়ে বেরিয়ে আসবে এক অদেখা পরজীবী যা আপনার শরীরে বাসা বেঁধে আছে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে ।

হ্যাঁ, বলছি ২০১২ সালের ব্যবসা সফল কোরিয়ান সিনেমা “Deranged” এর কথা । সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে মহামারী নিয়ে । এক প্রকার পরজীবী যা নদী, পুকুর, লেক বা যে কোন জলাশয় থেকে আপনার শরীরে প্রবেশ করে আপনার পাকস্থলীতে অবস্থান করে আপনার শরীরের সকল পুষ্টি চুষে নিবে । এই পরজীবী যখন বয়সের দিক থেকে পূর্ণতা পাবে তখন আপনার ক্ষুধা কমে যাবে এবং তৃষ্ণা বেড়ে যাবে এবং আপনি এক সময় নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাবেন এবং পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মারা যাবেন । কারণ এই পরজীবী মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে । বলা যায় এই হল মূল ঘটনা সেই সিনেমার ।

সিনেমায় দেখানো হয়েছে যে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের কাছে এই রোগের কোন চিকিৎসা নেই । কিন্তু একটি ঔষধ কোম্পানির ঔষধ খেয়ে একজন সুস্থতা লাভ করে । সিনেমায় দুই ভাইয়ের গল্প দেখানো হয়েছে । এক ভাই ঐ ঔষধ কোম্পানির প্রাক্তন গবেষক এবং আরেক ভাই পুলিশ কর্মকর্তা । একজন নিজের পরিবারকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠে । আর পুলিশ কর্মকর্তা ভাইটি মরিয়া হয়ে উঠে ভাইয়ের সাথে তার ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্ক ঠিক করতে এবং এই মহামারীর রহস্য উদ্ধার করতে ।
ঘটনাচক্রে বুঝতে পারবেন যে এই পরজীবী পানিতে ছড়ানো হয়েছে পূর্ব পরিকল্পনা করে । আর যদি সেই ধারণা করেই সিনেমাটি দেখতে থাকেন তবে ভুল করবেন । কারণ পরিচালক আপনার এই ধারণাকে পরিবর্তন করে আপনাকে বেশ কয়েকবার দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ফেলে দিবে যে আপনি হয়তো ভেবেই নিবেন যে দেখি আসলে কি হয় বা কাহিনী কোন দিকে মোড় নেয় ।

সিনেমাটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন Jeong-woo Park । এবং সিনেমার প্রধান প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন Kim Myung-min, Kim Dong-wan, Moon Jung-hee, Lee Ha-nui প্রমুখ । সিনেমাটি মুক্তি পাবার প্রথম দিনেই আয় করেছে রেকর্ড পরিমাণ যা “The Amazing Spider Man” কেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ায় । একটানা পাঁচ সপ্তাহ চলার পর সিনেমাটির আয় গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩২০ বিলিয়ন ওয়ানে (কোরিয়ান মুদ্রা) । সিনেমাটি ২০১২-১৩ সালে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পেলেও পুরস্কার জিতে নেয় দুটিতে । এই সিনেমার সাথে ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া “The Flu” সিনেমার যথেষ্ট সাদৃশ্য খুঁজে পাবেন । 

সিনেমাটি দেখার সময় মনে হবে সমস্যা সমাধানের দিকে কাহিনী এক পা এগিয়ে যাচ্ছে তো আবার দুই পা পিছিয়ে আসছে । তাহলে কি হবে সমাধান ? আক্রান্ত লোকগুলো কি বেঁচে যাবে নাকি মারা যাবে ? তাদের আত্মীয়-স্বজন কি চোখের সামনেই তাদের মৃত্যুর দিকে বিনা বাঁধায় চলে যেতে দিবে নাকি প্রতিরোধ গড়ে তুলবে ? কিভাবে ছড়াল এই পরজীবী, কেনই বা ছড়াল, কারা ছড়াল ? তাহলে ভবিষ্যৎ কি দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের ? এই সকল প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য দেখে ফেলতে হবে আপনাকে এই সিনেমাটি ।
 
Torrent Link: https://kat.cr/deranged-2012-bluray-1080p-5-1ch-x264-smallandhd-t9150763.html

Sunday, October 25, 2015

Cold Eyes: পর্যবেক্ষণ যখন পেশা, শখ এবং শিল্প

এক নজরে "Cold Eyes"
*************************
Original Title: “Gamsijadeul”
English Title: “Cold Eyes” (2013)
Genre: Action, Crime
Country: South Korea
Language: Korean
IMDB Rating: 7.2
My Rating: 7


২০১৩ সালের আরও একটি ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র “Cold Eyes” । সিনেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক আগ্রহ নিয়ে দেখলাম । বেশ ভালোই লাগল সিনেমাটি ।

সিনেমাটির শুরুটা আমার কাছে বেশ রোমাঞ্চকর ছিল । কারণ পরিচালক যে আসলে কি দেখাতে চাচ্ছে তাই বুঝে উঠা মুশকিল হয়ে পড়েছিল । তবে বেশ কিছুক্ষন দেখার পর বুঝতে পারলাম যে একটা ব্যাংক ডাকাতি হতে চলেছে । সিনেমার পরবর্তী অংশে আরও বুঝা যাবে যে এটি আসলে শুধু সাধারণ ব্যাংক ডাকাতি ছিল না বরং ঠাণ্ডা মাথার কিছু ফ্রিল্যান্সার সন্ত্রাসীর কাজ ছিল যারা বিভিন্ন চুক্তিতে কাজ করে পুলিশ, ক্যামেরাসহ সবকিছুর নজর এড়িয়ে ।

অন্যদিকে আরও একটি গ্রুপ থাকে যারা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করে তবে এদের কাজ হল নজর রাখা এবং বড় প্রৌফাইলের সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করা । পুরো সিনেমা জুড়ে এই দুই গ্রুপের মধ্যে বলা যায় এক প্রকার লুকোচুরি খেলা চলতে থাকে । দেখার বিষয় হল খেলার শেষ পর্যায়ে কে জিতে আর কিভাবে জিতে ।

সিনেমাটি তৈরি করা হয়েছে ২০০৭ সালের চীনের “Eye in the Sky” সিনেমার উপর ভিত্তি করে । সিনেমায় সারভেইলান্স দলের নানা কৌশল, দক্ষতা এবং কর্মপদ্ধতি তুলে ধরেছেন পরিচালক Ui-seok Jo এবং Byung-seo Kim । সিনেমার অন্যান্য প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন Sol Kyung-gu, Jung Woo-sung, Han Hyo-joo প্রমুখ । এদের মধ্যে Sol Kyung-gu “Hope” সিনেমায় বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন । এখানেও তার অসাধারণ অভিনয় দেখা গিয়েছে ।

হালকা থ্রিলারধর্মী সিনেমা বলা যায় এটিকে । যদিও সিনেমাটি আমার কাছে বেশ ধীর গতির মনে হয়েছে তবে বাস্তববাদী গল্পের কারণে হয়তো গতির এই কমে আসা । সিনেমার শেষ পর্যায়ে একটু হতাশাও কাজ করেছে বলা যায় । তবে লক্ষ্য করেছি যে, আমার দেখা সব সিনেমা এবং পঠিত গল্পে যখন বাস্তবতা উঠে আসে তখন প্রত্যেক ক্ষেত্রেই বলা যায় আমি হতাশ হয়ে থাকি । তবে এটাও সত্য যে এই বাস্তবতা সিনেমায় তুলে ধরাও পরিচালকের জন্য বেশ বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় । সেদিক থেকে বলবো এই সিনেমার দুই পরিচালক সার্থক ।

Torrent Link: https://kat.cr/cold-eyes-2013-brrip-xvid-korean-sam-etrg-t8289793.html

Monday, October 19, 2015

The Flu: মহামারী যখন এক অজ্ঞাত জ্বর

Original Title: “Gamgi”
English Title: “The Flu” (2013)
Genre: Drama, Thriller
Country: South Korea
Language: Koran
IMDB Rating: 6.7
My Rating: 6.8


ভাইরাস ছড়িয়ে মহামারীর আকার ধারণ করে একটি শহর বা জনপদের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে এমন সিনেমা আমি যে কয়টি দেখেছি তার সবগুলোই ছিল জম্বি নিয়ে । কোরিয়ান এই সিনেমাটি দেখলাম যেখানে মহামারী আছে তবে জম্বি নেই । বেশ ভালো লাগল সিনেমাটি ।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি শহরে মানব পাচার করার সময় একটি মারাত্মক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে যা বাতাসের সাথে খুব সহজেই মিশে যায় এবং এর দ্বারা যে কেউ সংক্রমিত হতে পারে । এই রকমই একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে কোরিয়ার একটি শহরের প্রায় সকল মানুষ । ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ যেন শহর থেকে বের হতে না পারে তার জন্য পুরো শহরটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মানুষের জীবন নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক খেলা, চলে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণ । আর এভাবেই এগিয়ে চলে এই সিনেমার গল্প । সরকার কি সিদ্ধান্ত নিবে এতোগুলো মানুষের জীবন নিয়ে ? সেটাই শেষ পর্যন্ত ফুটে উঠে ।

এই সিনেমার প্রধান চরিত্রে রয়েছে তিনজন । Soo Ae নায়িকার চরিত্রে, Jang Hyuk নায়কের চরিত্রে এবং একটি পিচ্চি মেয়ের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছে Park Min-ha । তবে আমার কাছে মনে হয়েছে যে সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এই পিচ্চি মেয়েটিকে ঘিরেই । আর সবকিছুর সাথে নেপথ্যে রয়ে গিয়েছে একটি সুপ্ত ভালোবাসা ।

সিনেমার শেষ অংশে প্রচণ্ড উত্তেজনা কাজ করেছে । এই সিনেমার লেখক এবং পরিচালক Kim Sung-su যে দৃশ্যগুলো উপস্থাপন করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে । কোরিয়ার বন্ধু রাষ্ট্র আমেরিকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির অবস্থান এবং পরবর্তীতে সেই সম্পর্কে যেন চির না ধরে তার জন্য রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের যে চিত্রগুলো পরিচালক দেখিয়েছেন তা সত্যিই অবাক করেছে । বেশ সাহসী পদক্ষেপ ছিল পরিচালকের জন্য মনে হয় ।

সব মিলিয়ে বেশ ভালো লেগেছে । আধুনিক সমাজে মহামারীর বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বাস্তবরূপে ফুটে উঠেছে এই সিনেমায় ।

Saturday, October 17, 2015

“Hope” একটি নৃশংসতার গল্প, সম্মিলিত ভালোবাসার গল্প

Original Title: “So-won”
English Title: “Hope” (2013)
Genre: Drama
Country: South Korea
Language: Korean
IMDB Rating: 8.0
My Rating: 8.5


“The Shawshank Redemption” (1994) সিনেমাটির শেষ ভাগে একটি অসাধারণ উক্তি ছিল । আর তা হল-
“Hope is a good thing. May be the best of things. And no good thing ever dies.”

এই কথাটি সবার আগে মনে পড়েছে আমার এই সিনেমাটি দেখে । “আশা” এমন একটা জিনিস যা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, বেঁচে থাকার পথে পরিচালিত করে । সেই “আশা” নাম দিয়েই এই সিনেমার নাম ।

এই সিনেমার প্রধান চরিত্র মাত্র ৮ বছরের একটি মেয়ে "Hope" এর চরিত্রে অভিনয় করেছে Lee Re । কোন এক বৃষ্টির দিনে স্কুলে যাবার পথে তাকে এক মাতাল ব্যক্তি ধর্ষণ করে এবং মারাত্মকভাবে জখম করে ফেলে রেখে যায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে । মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য ডাক্তারদের শেষ ভরসা ছিল মেয়েটির একটি কিডনি এবং পায়খানার দ্বার কেটে ফেলা । মেয়েটি বেঁচে যায় এ যাত্রায় তবে বুদ্ধিমান মেয়ে বলে কথা । তার মাথায় চিন্তা চলে আসে যে বাবা-মা কাজ বন্ধ করে তার জন্য হাসাপাতালে পড়ে আছে, সংসার চলবে কিভাবে; স্কুলে গেলে মুখ দেখাবে কিভাবে বা বন্ধু-বান্ধবীরা তাকে এই বিষয় নিয়ে উত্যক্ত করবে কি না বা নিজ বাসায় ফিরে গেলে প্রতিবেশীরা কিভাবে দেখবে বিষয়টি । এই সকল ভাবনা চিন্তা নিয়েই চলতে থাকে মেয়েটির ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠা এবং আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ।

অসাধারণ একটি হৃদয় বিদারক এবং ভালোবাসার গল্প উঠে আসে এই সিনেমায় ।
বর্তমান আধুনিক সমাজে আমাদের পারিবারিক সম্পর্কগুলো এতোটাই ঠুনকো যে আর কি বলবো । হয়তো কোন বড় দুর্ঘটনা না ঘটলে আমাদের মাঝের সম্পর্কের এই দূরত্ব কখনোই ঘুচবে না । এই রকমই ব্যস্ত বাবা-মার একমাত্র মেয়ে এই “Hope” মেয়েটি । কিন্তু তার জীবনের এই একটি দুর্ঘটনা তার বাবা-মাকে তার কাছে ফিরিয়ে আনে । তবে ঘটনাচক্রে সে তার বাবাকেও ভয় পেতে শুরু করে । তার মনে ভয় জাগে যে বাবাও হয়তো তাকে ধর্ষণ করবে । তার মনের এই ভ্রান্ত ধারণা মুছে ফেলে সে যেন আবার বাবার উপর আস্থা রাখতে পারে তার জন্য বাবা প্রাণান্ত চেষ্টা করে যায় ।

সিনেমার একটি জায়গায় “Hope” বলে উঠে যে তার নানি যখন খুব হতাশায় ভুক্ত তখন উনি বলতেন যে উনি মরতে চান ।  তখন সে কথার অর্থ না বুঝলেও এখন “Hope” সেই কথার অর্থ বুঝতে পারে এবং নিজেকেই প্রশ্ন করে যে আমি কেন জন্ম নিলাম ।

পরিশেষে বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী সবার ভালোবাসায় “Hope” আবারও ফিরে আসে তার পুরনো জীবনে । যাদেরকে সে ভয় করেছিল তারাই সবার আগে ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে আসে তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ।

হয়তো মনে হবে যে আমি সব গল্প বলে দিয়েছি । কিন্তু সত্য কথা হল গল্পের এতোটা বলার পরেও আমি আসলে কিছুই বলি নাই । সেটা নিজ চোখে দেখলেই বিশ্বাস হবে । অসাধারণ গল্প, অসাধারণ অভিনয়ে ভরপুর একটি সিনেমা যা আপনাকে আবেগে আপ্লুত করে আপনার চোখের কোণে হয়তো এক ফোঁটা নোনতা জলের আবির্ভাবও ঘটাবে । আমি নিজেও কয়েকবার চোখ ভিজিয়ে ফেলেছি এই সিনেমাটি দেখতে গিয়ে ।

এই সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে ২০০৮ সালে ঘটে যাওয়া একটি সত্যি ঘটনার উপর ভিত্তি করে । ৩৪তম Blue Dragon Film Awards এ এটি সেরা সিনেমার খেতাবটি জিতে নেয় “Miracle in Cell No. 7”, “Snowpiercer”, “The Face Reader” এর মতো ভালো সিনেমাগুলোকে পেছনে ফেলে । এছাড়াও প্রাপ্তির খাতায় রয়েছে ২০১৩-১৪ বছরে সর্বমোট ২৬ টি পুরষ্কারের জন্য নমিনেশন এবং ১০ টিতে পুরষ্কার জিতে নেওয়া ।

অসাধারণ এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন Joon-ik Lee এবং “Hope” এর বাবার চরিত্রে Sol Kyung-gu এবং মা'র চরিত্রে অভিনয় করেছেন Uhm Ji-won । সুতরাং আর সময় নষ্ট না করে দেখে ফেলতে পারেন এই অসাধারণ সিনেমাটি ।
 
Torrent Link: https://kat.cr/hope-aka-wish-aka-so-won-2013-720p-brrip-x264-korean-movie-xpoz-t9721298.html

Thursday, October 15, 2015

Montage: রহস্যে ঘেরা অপহরণ

Original Title: “Mong-ta-ju”
English Title: “Montage” (2013)
Genre: Thriller
Country: South Korea
Language: Korean
IMDB Rating: 7.5
My Rating: 8.0


টানটান উত্তেজনার সিনেমা বলতে যা বুঝায় “Montage” সিনেমাটি সেই রকমই । ২০১৩ সালের কোরিয়ান সিনেমার সেরা ১০ সিনেমার মধ্যে মনে হয় একটি এটি । আমার দেখা ২০১৩ সালের কোরিয়ান সিনেমার গুলোর মধ্যে এটিকেই আমি সেরা সিনেমা হিসেবে নির্বাচিত করবো ।

সিনেমার শুরুটা দেখে বুঝবেন যে ১৫ বছর আগে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে । পরবর্তীতে জানতে পারবেন যে আসলে তা দুর্ঘটনা ছিল না বরং একটি অপরাধ ছিল । তার আরও পরে জানতে পারবেন যে এটি ছিল একটি অপহরণের মামলা যা পনের বছর পূর্বে সংঘটিত হয়েছে এবং একটি বাচ্চা মেয়ে মারা গিয়েছে কিন্তু কিভাবে ঘটেছে তা জানতে পারবেন না । জানতে হলে আপনাকে দেখে যেতে হবে পুরো সিনেমাটি । এই অপহরণের মামলাটি ছিল অমীমাংসিত এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় কোন মামলার সমাধান যদি ১৫ বছরেও না হয় তবে সেই মামলা নিয়ে পুলিশ আর তদন্ত চালায় না । এই ক্ষেত্রে সেই জিনিসটিই দেখবেন । তবে ১৫ বছর বাদের আবারো সেই একই রকম অপহরণের ঘটনা ঘটে যা একদম ১৫ বছর আগের ঘটনাটির মতো । আর বেশি বলবো না । বাকিটা জানতে হলে দেখতে বসে যান ।

এই সিনেমার মজার বিষয় হল আগে থেকে আপনি কিছু ধরে নিতে পারবেন না । একটু পরে যে আসলে কি হবে সে সম্পর্কে আপনি আগে থেকে যদি কিছু চিন্তা করে নেন তবে সেটা ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশি । প্রতিটি মুহূর্ত আপনাকে থ্রিলার সিনেমা দেখার যে মজা সেই মজা বা আনন্দ দিতে বাধ্য । কারণ আপনি নিজেই অনিশ্চয়তায় ভুগবেন যে আসলে কি হতে যাচ্ছে । এবং সিনেমার শেষে এমন কিছু টুইস্ট অপেক্ষা করছে যা নিজে না দেখলে হয়তো বুঝবেন না ।

এই সিনেমার প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন Uhm Jung-hwa এবং Kim Sang-kyung । সিনেমাটি রচনা এবং পরিচালনা করেছেন Geun-seop Jeong । অসাধারণ এই সিনেমাটি দেখে ফেলতে পারেন । এই সিনেমাটি আপনাকে থ্রিলার সিনেমার  উত্তেজনায় ভরপুরতা । সিনেমাটি দেখলে আপনার সময় অপচয় হবে না এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি ।

Torrent Link: https://kat.cr/korean-montage-2013-dvdrip-x264-ac3-kg-t8353242.html

Wednesday, October 14, 2015

Hide and Seek: লুকোচুরির খেলা

Original Title: “Sumbakkokjil”
English Title: “Hide and Seek” (2013)
Genre: Thriller
Country: South Korea
Language: Korean
IMDB Rating: 6.3
My Rating: 6.5


দেখে ফেললাম আরও একটি অসাধারণ কোরিয়ান থ্রিলার মুভি “Hide and Seek” ।  এই সিনেমার শুরুটা হয় একটি খুনের দৃশ্য দিয়ে যেখানে খুনি হল সিনেমা কেন্দ্রীয় চরিত্র Min-ji এর সৎ ভাই । এই সৎ ভাইয়ের আগমন ঘটে নায়কের উপর প্রতিশোধ নেবার জন্য । প্রথমে নায়ক তার এই সৎ ভাইকে খুঁজা শুরু করে নিজের অপরাধবোধ থেকেই । কিন্তু এই ভাইকে খুজতে আসা যেন কাল হয়ে দাড়ায় তার জন্য । এবং ক্রমেই এই সৎ ভাই আতঙ্কে পরিণত হয় নায়কের জন্য । এভাবেই ঘটনা চলতে থাকে এবং নতুন করে এই সমস্যার সৃষ্টি হয় নায়কের পরিবারে । সিনেমার যখন প্রায় অর্ধেক দেখা শেষ তখন পুরো সিনেমার কাহিনী এমন একটা দিকে মোড় নিবে যা আপনি হয়তো ভাবেনই নি । অসাধারণ লেগেছে এই টুইস্টটা ।

সিনেমার শুরুটা একটু ধীর গতির মনে হতে পারে আপনার কাছে তবে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়তে থাকবে এবং একটি থ্রিলার মুভি দেখার যে মজা সেই মজা আপনাকে দিবে । আমার কাছে তো অসাধারণ লাগল । তবে আপনি যদি থ্রিলার মুভি ভালোবাসেন তবে নিরাশ হবেন না ।

Torrent Link: https://kat.cr/hide-and-seek-2013-bluray-1080p-5-1ch-x264-ganool-t8780391.html

Monday, October 12, 2015

The Face Reader: চেহারা যেখানে আপনার চরিত্রকে উপস্থাপন করে

Original Title: “Gwansang”
English Title: “The Face Reader” (2013)
Genre: Drama, History
Country: South Korea
Language: Korean
IMDB Rating: 6.8
My Rating: 7.0


গতকাল দেখে ফেললাম আরও একটি কোরিয়ান মুভি “The Face Reader” । অসাধারণ একটি সিনেমা । সিনেমার শুরুটা দেখে যতটা সহজ-সরল কাহিনী মনে করেছিলাম সময়ের সাথে সাথে আমার সেই ধারণা বদলে গিয়েছে । মুভিটি দেখে উপভোগ করার আরও একটি বড় কারণ হল মুভিটির গল্পে প্যাঁচের অভাব নেই । প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন ঘটনা উপস্থিত করেছেন পরিচালক যা আমার উপভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক বেশি ।

মুভিটির নাম দেখেই বুঝেছিলাম যে প্রধান বিষয় কি হতে পারে । এই মুভির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন Song Kang-ho যিনি যে কারও মুখ দেখেই তার বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন । সংসারের প্রয়োজনেই যাত্রা শুরু করেন শহরের উদ্দেশ্যে এবং জড়িয়ে পড়েন রাজতন্ত্রের জটিল রাজনীতিতে এবং সেখান থেকেই সিনেমার আসল ঘটনা শুরু যার প্রতিটি মুহূর্ত আপনার মধ্যে কৌতূহলের জন্ম দিবে । সিনেমার কিছু কিছু অংশে পরিচালক Han Jae-rim কমিক রিলিফ হিসেবে বেশ কিছু মজার এবং বেশ হাস্যরসাত্মক দৃশ্য দেখিয়েছেন যা নিঃসন্দেহে আপনার বেশ ভালোই লাগবে ।

২০১৩ সালে এই সিনেমাটি অসাধারণ সফলতা অর্জন করেন দক্ষিণ কোরিয়াতে । শুধুমাত্র আয়ের দিক থেকেই নয় বরং পুরষ্কার হিসেবে এই সিনেমাটি জিতে নেয় ছয়টি Grand Bell Award যা মনে হয় দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র পুরষ্কার ।  সুতরাং নিশ্চিন্তে দেখে ফেলতে পারেন এই অসাধারণ সিনেমাটি ।

Torrent Link: https://kat.cr/the-face-reader-2013-bluray-1080p-5-1ch-x264-ganool-t8855018.html

Saturday, October 10, 2015

Child 44 (2015): তন্ত্রের বেড়াজালে কিছু অপরাধ লুকিয়েই থাকে



Name of the Movie: Child 44 (2015)
Genre: Drama, Thriller
Country: USA and UK
IMDB Rating: 6.4
My Rating: 4.5


ব্রিটিশ মুভিগুলোর মধ্যে কেমন যেন একটা মাদকতা রয়েছে । প্রচণ্ডভাবে যা আমাকে টানে । সেই সুবাদেই এই মুভিটি দেখতে বসে । তবে এক্ষেত্রে একদমই হতাশ হয়েছি । গল্প যেমন খারাপ তেমনি পুরো সিনেমায় কোন সাসপেন্স খুঁজে পাইনি, আর অসাধারণ ধীর গতির একটি মুভি, যা দেখার জন্য আমার অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়েছে । 

“There is no murder in paradise” এই লেখাটি দিয়ে সিনেমার শুরু । সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে ১৯৫০ এর দশকের তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়টা, স্টালিনের যুগ । রাশিয়াকে স্বর্গের সাথে তুলনা করেই মনে হয় এই ধরণের একটা উক্তি ব্যবহার করা হয়েছে । আর এই কারণেই তৎকালীন রাশিয়ায় কোন খুনের তদন্ত হত না । সেই রকমই কিছু তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায় ।

সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন Tom Hardy এবং পরিচালনা করেছেন Daniel Espinosa সিনেমার শুরুটা দেখে সিনেমার কাহিনী সম্পর্কে আপনার মনে যে ধারণার সৃষ্টি হবে তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পাল্টে যাবে । সম্পূর্ণ নতুন এক কাহিনী উপস্থাপন হবে আপনার সামনে । এই চমকটিই একমাত্র ভাল লেগেছে আমার কাছে । তবে আপনি যদি জানতে চান কি সেই চমক তবে দেখতে বসে যেতে পারেন ।


Thursday, October 8, 2015

The Brotherhood of War: দুই কোরিয়ার যুদ্ধের অসাধারণ একটি চলচ্চিত্র



Original Title: Taegukgi Hwinallimyo
English Title: The Brotherhood of War (2004)
Country: South Korea
Language: Korean
IMDB Rating: 8.2
My Rating: 8.5


দিন দিন সাউথ কোরিয়ান মুভির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছি ভীষণভাবে । এরই ধারাবাহিকতায় আরও একটি কোরিয়ান সিনেমা দেখা হয়ে গেল আমার । এই সিনেমার মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে দুই ভাইয়ের সম্পর্ককে নিয়ে । বড় ভাই এবং ছোট ভাই । বড় ভাইয়ের চরিত্রে এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন বিখ্যাত অভিনেতা Dong-gun Jang  উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যেকার যুদ্ধের সময় ভাগ্যক্রমে এই দুই ভাইই যুদ্ধে জড়িয়ে যায় । বলা যায় জোর করেই তাদের যুদ্ধে পাঠানো হয় । যুদ্ধের ময়দান এবং যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের সার্বিক অবস্থা ফুটে উঠেছে এই সিনেমায় । কিভাবে যুদ্ধ একটি দেশ, একটি পরিবার, এমনকি একটি সম্পর্ককে সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলতে পারে তা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে এই সিনেমায় । যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং যুদ্ধের কারণে মানুষের মানসিক পরিবর্তনগুলো খুবই সুন্দর ভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে । সিনেমার মাঝে অনেক কিছুই আছে । আছে কিছু ইতিহাসও বটে । আমার খুবই ভাল লেগেছে । যারা কোরিয়ান মুভি এবং যুদ্ধের মুভির ভক্ত তাদের জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি আদর্শ সিনেমা । 

Wednesday, October 7, 2015

Dead Snow 2: একটু আলাদা ধরণের জম্বি মুভি



Movie Name: Dead Snow 2: Red vs. Dead (2014)
Genre: Action, Comedy, Horror
Country: Norway and Iceland
Language: English and Norwegian
IMDB Rating: 7.0
My Rating: 5.0 

আমার দেখা এটিই প্রথম নরওয়ের সিনেমা । তাও আবার জম্বি সিনেমা । জম্বি সিনেমার প্রতি আমার আলাদা একটু আকর্ষণ বেশ আগে থেকেই কাজ করে । এই সিনেমাটি বেশ অনেকদিন হয়ে গেল ডাউনলোড করে রেখেছিলাম তবে দেখা হয়ে উঠছিল না । অবশেষে গতকাল দেখে ফেললাম । জম্বি সিনেমার ক্ষেত্রে আমার জন্য বেশ নতুন একটা স্বাদ ছিল এই সিনেমার । ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “Dead Snow” এর সিকুয়াল ভার্সন এই সিনেমাটি । সিনেমার শুরুটা হয় “Dead Snow” সিনেমার কাহিনীর ধারাবাহিকতায় । এই সিনেমার মূল কাহিনী মূলত দুই জম্বি গ্রুপের মধ্যেকার সংঘর্ষকে নিয়ে  এর বেশি আর বললাম না । মাঝে মাঝে চমৎকার কিছু কমিক রিলিফও ব্যবহার করেছেন পরিচালক Tommy Wirkola সিনেমার শেষে আমার জন্য বেশ চমক ছিল বলা যায় । সব মিলিয়ে সিনেমাটি ভালই লাগল । ভিন্ন ধারার একটি জম্বি সিনেমা দেখা হয়ে গেল ।   

Tuesday, October 6, 2015

The Face Reader: অসাধারণ একটি কোরিয়ান সিনেমা

Original Title: “Gwansang”
English Title: “The Face Reader” (2013)
Genre: Drama, History
Country: South Korea
Language: Korean
IMDB Rating: 6.8
My Rating: 7.0


গতকাল দেখে ফেললাম আরও একটি কোরিয়ান মুভি “The Face Reader” । অসাধারণ একটি সিনেমা । সিনেমার শুরুটা দেখে যতটা সহজ-সরল কাহিনী মনে করেছিলাম সময়ের সাথে সাথে আমার সেই ধারণা বদলে গিয়েছে । মুভিটি দেখে উপভোগ করার আরও একটি বড় কারণ হল মুভিটির গল্পে প্যাঁচের অভাব নেই । প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন ঘটনা উপস্থিত করেছেন পরিচালক যা আমার উপভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক বেশি ।

মুভিটির নাম দেখেই বুঝেছিলাম যে প্রধান বিষয় কি হতে পারে । এই মুভির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন Song Kang-ho যিনি যে কারও মুখ দেখেই তার বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন । সংসারের প্রয়োজনেই যাত্রা শুরু করেন শহরের উদ্দেশ্যে এবং জড়িয়ে পড়েন রাজতন্ত্রের জটিল রাজনীতিতে এবং সেখান থেকেই সিনেমার আসল ঘটনা শুরু যার প্রতিটি মুহূর্ত আপনার মধ্যে কৌতূহলের জন্ম দিবে । সিনেমার কিছু কিছু অংশে পরিচালক Han Jae-rim কমিক রিলিফ হিসেবে বেশ কিছু মজার এবং বেশ হাস্যরসাত্মক দৃশ্য দেখিয়েছেন যা নিঃসন্দেহে আপনার বেশ ভালোই লাগবে ।

২০১৩ সালে এই সিনেমাটি অসাধারণ সফলতা অর্জন করেন দক্ষিণ কোরিয়াতে । শুধুমাত্র আয়ের দিক থেকেই নয় বরং পুরষ্কার হিসেবে এই সিনেমাটি জিতে নেয় ছয়টি Grand Bell Award যা মনে হয় দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র পুরষ্কার ।  সুতরাং নিশ্চিন্তে দেখে ফেলতে পারেন এই অসাধারণ সিনেমাটি ।

Torrent Link: https://kat.cr/the-face-reader-2013-bluray-1080p-5-1ch-x264-ganool-t8855018.html

Monday, October 5, 2015

Bol (2011): ধর্ম এবং নিরক্ষতা যেখানে অত্যাচারীদের পুঁজি হয়ে ওঠে

চলচ্চিত্রঃ "Bol"(2011)
দেশঃ পাকিস্তান
ভাষাঃ উর্দু
ধরণঃ ক্রাইম, ড্রামা
IMDB Rating: 8.3
Rotten Tomatoes: 88%
My Rating: 9


আমার দেখা তৃতীয় কোন পাকিস্তানী সিনেমা এটি । সংখ্যার দিক থেকে এটি অনেক কমই বলা যায় । তবে মনকে নাড়া দেবার জন্য মনে না হয় বেশি সংখ্যার প্রয়োজন রয়েছে । একটি সংখ্যায় যথেষ্ট যদি তা মানসম্পন্ন হয়ে থাকে । ব্যতিক্রমধর্মী এই সিনেমাটি দেখে আমার মনেই অনেকগুলো প্রশ্ন জেগে উঠেছে । হয়তো পরিচালক Shoaib Mansoor চেয়েছিলেন এই সিনেমাটি দেখে দর্শকদের মনে এই ধরণের প্রশ্ন জেগে উঠুক । সেদিক দিয়ে বলা যায় পরিচালক সার্থক । সিনেমাটিতেও কিছু কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে সমাজ এবং ধর্মের প্রতি যার উত্তর দেওয়াটা হয়তো খুব একটা সহজ নয় আমাদের জন্য । প্রশ্নটি হল-
"সন্তানকে হত্যা করা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তবে সন্তানকে জন্ম দেওয়া অপরাধ নয় কেন ? অবৈধ সন্তান জন্ম দেওয়া যদি অপরাধ হয়ে থাকে তবে বৈধ সন্তান জন্ম দিয়ে তাদের সঠিকভাবে মানুষ করতে না পারাটা অপরাধ নয় কেন ?"

আসলেই কঠিন প্রশ্ন । সামাজিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর তেমন ভাল কোন উত্তর আছে কি না তা আমার জানা নেই । এটি তো গেল সিনেমায় ছুঁড়ে দেওয়া প্রশ্নের কথা কিন্তু এরপরেও আরও কিছু প্রশ্ন আমাদের মনে জেগে উঠবে এই সিনেমাটি দেখার পরেই । প্রশ্নগুলো হল-

"একটি ছেলে সন্তানের আশায় আমরা কতটি মেয়ের এবং মেয়ে সন্তানের জীবন নষ্ট করতে পারি ?"
"বিয়ে মানেই যদি সামাজিক এবং ধর্মীয় নিয়মে সন্তান জন্মদানের প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকে তবে আমরা কতটি সন্তান নিতে পারি ?"

"সামাজিক এবং ধর্মীয় নীতি পরিবারের কর্তা বাবাকে কি সন্তানকে হত্যা করারও অনুমতি দিয়ে থাকে ?"
"একজন হিজড়ে সন্তানের জন্ম দেওয়ার অপরাধ কি সেই সন্তানের ?"

অনেকগুলো শক্ত প্রশ্ন যার আসলে সহজ কোন উত্তর নেই, এক কথায় কোন উত্তর নেই । যায় হোক, সিনেমার গল্পটি শুরু হবে এক ফাঁসির আসামীর প্রানভিক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের দৃশ্য দিয়ে । প্রানভিক্ষা না পাওয়ায় রাষ্ট্রপতির কাছে এই আসামীটি একটি অদ্ভুত শেষ ইচ্ছে প্রকাশ করে আর তা হল সাংবাদিকদের সম্মুখে তার জীবনের গল্প বলার শেষ ইচ্ছে । রাষ্ট্রপতি আবেদন মঞ্জুর করেন এবং আসামী মেয়েটি অনুমতি পায় গল্প বলার । শুরু হয় এক দুর্বিষহ কাহিনীর যেখানে পদে পদে একটি পরিবারের মেয়ে সন্তানদের সামাজিক এবং ধর্মীয় অদৃশ্য শেকলে বন্দি করে নিরন্তর অত্যাচার করা হয় এবং এইভাবেই সিনেমার গল্পটি এগিয়ে চলে ।

এই সিনেমার প্রতিটি মুহূর্ত আপনাকে নাড়া দিতে পারে । প্রতি মুহূর্ত ছুঁড়ে দিতে পারে বিতর্কিত প্রশ্ন । পরিচালক সমগ্র সিনেমায় সমাজ এবং ধর্মকে কটাক্ষ করেছেন এর প্রচলিত নিয়মের জন্য । একজন ব্যক্তি যে কি না সম্পূর্ণ পর্যায়ের ধার্মিক কিন্তু নিজের অহংকার এবং প্রভাব বজায় রাখার জন্য সে পতিতালয়েও যায় । শর্তসাপেক্ষে সন্তান উৎপাদন করে পতিতালয়ের জন্য অর্থের বিনিময়ে । নিজ ঘরে ছেলে সন্তানের আশায় পিতা জন্ম দিয়ে দেয় প্রায় দুই হালি কন্যা সন্তানের কিন্তু তাদের পড়ালেখা বা বিনোদন বা মানসিক বিকাশের কোন ব্যবস্থা করে না । এই ছেলে সন্তানের আশায় একটি হিজড়ে সন্তানের জন্ম দেওয়ায় তার দায় পড়ে সেই সন্তানেরই উপর এবং  তাকেও এর জন্য চরম মূল্য দিতে হয় । তবে কি সমাজে এবং ধর্মে এই হিজড়ে সন্তানদের জন্য কোন স্থান নেই ? তারা কি এইভাবে সমাজের বোঝা হয়েই থাকবে ? অবশ্য নিজের পরিবারই যখন তাকে বোঝা ভাবে তখন সমাজ ভাববে না কেন ? ধর্মীয় নিয়ম কি তৈরি হয়েছে সমাজের উঁচু এবং ক্ষমতাবান শ্রেণীর ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার জন্য না কি দুর্বলকে আরও বেশি অত্যাচার করার জন্য ? এই সিনেমার কঠিন কিছু বাস্তবতা ভারাক্রান্ত করে তুলবে আপনার মনকে এই রকম আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে।

এই সকল অত্যাচার এবং অনাচারের দৃশ্য দিয়েই যদি পরিচালক সিনেমাটি শেষ করে দিত তবে বেশ ভালই হতো । কিন্তু পরিচালক দর্শকদের মনে এমন কঠিন প্রশ্ন তৈরি করার পরে তার একটা সুন্দর সমাধানও দিয়ে দিয়েছেন সিনেমার শেষে যা সিনেমাটি পুরো দেখলেই আপনারা বুঝতে পারবেন এবং দেখতে পারবেন তার ফলাফল ।

স্বাধীনতা এবং শিক্ষা অনেক বড় বিষয় । এই দুটো জিনিস যদি আমাদের কব্জায় থাকে তবে অনেক কিছুরই কুফল থেকে আমরা নিজেদের মুক্ত রাখতে পারি । এই সিনেমাটি দেখে সেটা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করা যায় । এই সিনেমা দেখে হয়তো মনে হতে পারে যে এটি পাকিস্তানের সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে তৈরি  একটি কাহিনী । পাকিস্তানের সামাজিক এবং ধর্মীয় নিয়মে এমন অত্যাচার হয় এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু আমাদের দেশের বহু পরিবারের কাহিনীও মূলত উঠে এসেছে এই সিনেমায় । এই ধরনের পরিবার খোঁজার জন্য আমাদের দেশের গ্রামে যাবার প্রয়োজন নেই বরং আমাদের চারিপাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই ধরণের অসংখ্য পরিবার যাদের মাঝে খুঁজে পাওয়া যাবে এই সিনেমায় দেখানো অনেক দৃশ্যই ।

সিনেমাটি রচনা, পরিচালনা এবং প্রযোজনা করেছেন Shoaib Mansoor । Johns Hopkins University Center for Communication Programs এর অন্তর্গত শিক্ষামূলক বিনোদন হিসেবে এই সিনেমাটির আবির্ভাব । পাকিস্তানের ধর্মীয় এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ কিভাবে মেয়েদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে সেটি প্রশাসন এবং অভিজাত শ্রেণীর কাছে উপস্থাপন করা ছিল এই সিনেমার অন্যতম মুখ্য উদ্দেশ্য । সিনেমাটির অন্যান্য কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন Hummaima Mallick, Manzar Sehbai, Shafqat Cheema, Atif Aslam প্রমুখ । সিনেমার খলনায়কের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন Manzar Sehbai । তার অভিনয় দেখেই মুগ্ধ হয়েছি । অসামান্য অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি পুরো সিনেমায় আপনার মধ্যে ঘৃণা জাগ্রত করতে বাধ্য করবে যা একজন খলনায়ক হিসেবে তার অভিনয়কে সার্থক করতে তুলে  ।
এক কথায় বলা চলে যে “Bol” একটি অসাধারণ এবং মনোমুগ্ধকর সামাজিক সিনেমা যা পরিবারের সকলকে নিয়ে দেখা সম্ভব ।